মঙ্গলবার, মে ২১

এখনও মাইনে পেলেন না বিএসএনএল কর্মীরা, আজ-কালের মধ্যে কি পাবেন?

অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়

এখনও পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসের মাইনে পাননি বিএসএনএল-এর কর্মীরা। কর্মীদের একটা অংশ বলছেন, কবে মাইনে পাবেন, সেটা এখনও জানেন না। আরেকটা অংশের মতে, শনিবার বকেয়া মাইনে মিলতে পারে। আপাতত আশা-আশঙ্কার দোলাচলে দুলছে কর্মীদের মাইনের ভবিষ্যৎ।

ফেব্রুয়ারি মাসের মাইনে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির পিছনে বিএসএনএল কর্তা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারকেই দূষছেন। এই সরকারি সহযোগী সংস্থাটির কর্তা ও কর্মীদের বক্তব্য, এর দায় পুরোটাই কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিকম মন্ত্রকের। তাদের অসহযোগিতার জন্যই কর্মীদের আজ পথে বসতে হচ্ছে।

বিএসএনএল সূত্রে খবর, গোটা দেশের মধ্যে শুধু কেরল সার্কেলের কর্মীরা ইতিমধ্যে মাইনে পেয়েছেন। আর সময়মতো মাইনে পেয়েছেন দিল্লির কর্পোরেট অফিস (হেড অফিস)। বাকি সব জায়গাতেই মাইনে বকেয়া পড়ে গিয়েছে। মূলত বিএসএনএলের ভাঁড়ার শূণ্য হয়ে যাওয়াতেই এই দুরবস্থা হয়েছে।

বিএসএনএলের কর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার কর্মীযুক্ত এই সংস্থা চালানোর খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই ভাবে আয় অনেক কম হচ্ছে। দেশ জুড়ে এখনও ১০ কোটি গ্রাহক এই সংস্থার পরিষেবা গ্রহণ করছে। কিন্তু টেলিফোন এবং নেটের খরচ বাবদ গ্রাহকেরা যে টাকা দিচ্ছেন তাতে খরচ উঠছে না।

কর্তা-কর্মীদের বক্তব্য, এই অবস্থা তৈরি হয়েছে সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য। দেশের একটি বেসরকারি পরিষেবা সংস্থা যখন বাজারে অনেকটা সময় ধরে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া শুরু করে, সেই সময় থেকেই টেলিফোনের বাজার নিম্নগামী হয়ে পড়ে। বারবার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সরকার করেনি।

এখন প্রায় প্রতিটি টেলিকম সংস্থাই ধুঁকছে। ব্যাঙ্ক থেকে বিরাট বিরাট অঙ্কের টাকা লোন নিয়ে কোনও মতে সংস্থা চালাচ্ছে। কিন্তু বিএসএনএল এখন সেই অবস্থাতেও নেই। এই সংস্থা সরকারের সহযোগী সংস্থা হলেও এর সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তিই সরকারের অধীনে। ফলে ব্যাঙ্কে ঋণ নিতে গেলে যে স্থাবর সম্পত্তি দেখাতে হয়, সেটা বিএসএনএল হাতে নেই। ফলে এই সংস্থা বাজার থেকে ঋণও নিতে পারছে না।

বিএসএনএলের অল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক (কলকাতা) শিশির চ্যাটার্জী জানান, ২০০১ সালে এই সংস্থাকে যখন আলাদা করে দেওয়া হয়, সেই সময় সব কিছু আলাদা করা হলেও নিয়ম অনুযায়ী স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তিগুলি সরকার নিজের হাতেই রেখে দেয়। তা আজও হস্তান্তর করে হয়নি। ফলে সেই কারণে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণও মিলছে না।

তবে কী ভাবে দেওয়া বচ্ছে বেতন?

বিএসএনএল সূত্রের খবর, একদিকে ভাঁড়ার শূন্য হওয়া এবং ঋণ না পাওয়ায় ঠিক হয়েছে এক অন্য উপায়ে মাইনে দেওয়া হবে কর্মীদের। দিনে এই সংস্থায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা আয় হয়। ফলে ১০ দিন ওই টাকা জমিয়ে মাইনে দেওয়া হবে। কিন্তু এ মাসে মাসের প্রথম ১০ দিন এই টাকা ঠিকমত না ওঠায় কিছুটা বেশি সময় লাগছে বেতন দিতে। কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, এ ভাবে কতদিন চলবে?

Shares

Comments are closed.