স্ত্রী করোনা পজিটিভ, ডাক্তারবাবু পরিচারিকার নামে নমুনা পাঠিয়ে দিলেন কোভিড টেস্টের জন্য

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্মক্ষেত্রে না বলে বিয়েবাড়িতে পরিবারের সঙ্গে গিয়েছিলেন ডাক্তারবাবু। সেখান থেকে ফিরে ফের কাজে যোগ দেন। এদিকে স্ত্রীর শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়ে। স্ত্রী করোনা পজিটিভ হয়েছে জানাজানি হলে তিনি যে না বলে বিয়েবাড়ি গিয়েছিলেন, তা ফাঁস হয়ে যেতে পারে। তাই স্ত্রীর নমুনা বাড়ির পরিচারিকার নামে পাঠিয়ে দেন তিনি। যদিও এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে। ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রাউলিতে। সেখানকার খুটার হেলথ সেন্টারের ডাক্তার অভয় রঞ্জন সিং গত ২৩ জুন কর্মক্ষেত্রে না জানিয়ে উত্তরপ্রদেশের বালিয়াতে একটি বিয়েবাড়িতে যান। কারণ, কর্মক্ষেত্রে জানালে তিনি ছুটি পেতেন কিনা তার নিশ্চয়তা ছিল না। তাই কাউকে না জানিয়ে, ছুটি না নিয়েই বিয়েবাড়িতে যান তিনি। সঙ্গে পরিবারের লোকও গিয়েছিল।

সেখান থেকে ১ জুলাই তিনি ফের সিংগ্রাউলিতে ফেরেন। তারপরে নিয়ম মতো ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা তো দূর, ফের কাজে যোগ দেন তিনি। এমনকি কন্টেনমেন্ট এলাকায় গিয়ে কাজ করেন অভয় রঞ্জন। কন্টেনমেন্ট এলাকা সিল করার কাজ করতেও দেখা যায় তাঁকে।

এদিকে কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্ত্রীর শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি ভেবেছিলেন, স্ত্রীর করোনা হয়েছে, একথা জানাজানি হলেই তিনি যে কাউকে না জানিয়ে বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন ও তারপর সেখান থেকে ফিরে এসে কাউকে না জানিয়ে, হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে কাজে যোগ দিয়েছেন, তা জানাজানি হয়ে যাবে। চাকরি নিয়ে টানাটানি হতে পারে। একথা ভেবে স্ত্রীর নমুনা বাড়ির পরিচারিকার নামে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেন ডাক্তার।

নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই স্বাস্থ্যকর্মীরা সেই পরিচারিকার বাড়ি যান। তখনই পুরো জালিয়াতি সামনে আসে। তারপরে অভয় রঞ্জন সিং ও তাঁর বাড়ির আরও দুই সদস্যেরও করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।

এই ঘটনায় বাইধান পুলিশ স্টেশনের ইন-চার্জ অরুণ পাণ্ডে জানিয়েছেন, “ডাক্তার অভয় রঞ্জন সিংয়ের নামে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের আওতায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যখনই তিনি সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠবেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই ডাক্তারের স্ত্রীর নমুনা তাঁদের পরিচারিকার নামে পাঠানো হয়েছিল। সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে আইসোলেট করার জন্য তাঁর বাড়িতে গেলে জালিয়াতি ধরা পড়ে। জানা যায় এটি তাঁর নমুনা নয়।”

ডাক্তার অভয় সংক্রামিত হওয়ার পরে তাঁর সংস্পর্শে আসা ৩৩ জন সরকারি কর্মীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন মহকুমাশাসকও রয়েছেন। তাঁদেরও নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More