শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

মায়া-মমতা কেন গেলেন না গেহলট-কমলনাথের শপথে?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকাল। রাজস্থান থেকে আচমকাই ফোন বাংলার এক তরুণ কংগ্রেস নেতার কাছে। বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইল নম্বরটা দিতে পারেন? স্বাভাবিক কারণেই, কৌতুহলী পাল্টা প্রশ্ন, কেন? জবাবে এলো, অশোক গেহলটজি চাইছেন। সোমবার ওঁর শপথ অনুষ্ঠানে মমতাজিকে নিমন্ত্রণ করবেন।
কাট টু জয়পুর।

আরও পড়ুন সব্বাইকে চাপে ফেলছেন রাহুল! শপথ নিয়েই ছত্তীসগড়ে ধানের সহায়ক দাম কুইন্টালে আটশ টাকা বাড়ালেন বাঘেল

সোমবার দুপুরে জয়পুরে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট তৃতীয় বারের জন্য রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে রাহুল গান্ধী, মনমোহন সিংহ, টিডিপি নেতা তথা অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, এনসিপি নেতা শরদ পওয়ার, প্রাক্তন জেডিইউ নেতা শরদ যাদব, ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন, জনতা দল সেকুলার নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া, জাতীয় কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লাহ সহ জাতীয় স্তরে বিজেপি তথা মোদী বিরোধী সব পরিচিত চরিত্র। শুধু তিন জনের মুখ অমিল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতী এবং উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব।

সোমবার শপথ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময়

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠল তা হলে কী বিরোধী ঐক্য জোরালো নয়! দুর্বল?

অথচ মাত্র ৬ মাস আগে বেঙ্গালুরুর ছবিটা এখনও স্মৃতি থেকে যায়নি। কর্নাটকে কংগ্রেস-জনতা দল সেকুলার জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন কুমারস্বামী। সেই মঞ্চে কে নেই! কলকাতা থেকে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লখনউ থেকে মায়াবতী-অখিলেশ। শুধু তাই নয়, হাত বাড়িয়ে সনিয়া গান্ধীকে জড়িয়ে ধরছেন মায়া! আবার সস্নেহে মায়ার কপালে নিজের কপাল ঠুকে দিচ্ছেন সনিয়া।

বেঙ্গালুরুতে কুমারস্বামীর শপথ অনুষ্ঠানে

কিন্তু কী এমন হল, সোমবার জয়পুরে গেলেন না মায়া-মমতা-অখিলেশ? অশোক গেহলট একা নন, মধ্যপ্রদেশের নতুন মুখ্যমন্ত্রী পদে এ দিনই শপথ নিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কমলনাথ। ছত্তীসগড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও শপথ নিয়েছেন ভূপেশ বাঘেল। শপথ অনুষ্ঠানে তাঁরাও নিমন্ত্রণ করেছিলেন মায়া-মমতা-অখিলেশকে।

শপথ অনুষ্ঠানে তাঁদের অনুপস্থিতি নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এঁরা কেউই দেননি। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির কথাই জানিয়েছেন সকলে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সে যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন। বরং তাঁদের মতে, হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্যে জিতে কংগ্রেস তথা রাহুলের আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়ে ওঠা কোনও ভাবেই ভাল ভাবে নিতে পারছেন না মায়া-অখিলেশ। কারণ, হিন্দিবলয়ে কংগ্রেস শক্তিশালী হয়ে ওঠার অর্থই হল উত্তরপ্রদেশেও কংগ্রেসের মনোবল বাড়া। এর ফলে উনিশের ভোটে মোদী বিরোধী লড়াইয়ে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কের কাছে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। উত্তরপ্রদেশে যদি শেষমেশ মহাজোট হয়, সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস তখন আসন ভাগাভাগিতে যথেষ্টই বেগ দিতে পারে। ফলে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কংগ্রেস তথা রাহুলের মর্যাদা বাড়িয়ে তাঁদের লাভ নেই।

একই ভাবে বিরোধী জোটে রাহুলের নেতৃত্ব মানতে নারাজ তৃণমূলও। রবিবার চেন্নাইতে ডিএমকে নেতা তথা প্রয়াত করুণানিধি পুত্র এম কে স্ট্যালিন বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, উনিশের নির্বাচনে বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী হলেন রাহুল! স্ট্যালিনের সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে খারিজ না করলেও, ঘরোয়া আলোচনায় তৃণমূল নেতারা জানিয়েছিলেন, এটা ঠিক হচ্ছে না! নেতা বাছা হবে ভোটের পর। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলও চায় না জাতীয় রাজনীতিতে রাহুলের ওজন বাড়ুক। বরং লোকসভা ভোটের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তৃণমূল আশাবাদী।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, ইদানীং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলুগু দেশম পার্টি নেতা চন্দ্রবাবু নায়ডুর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বন্ধু সম্পর্ক দৃশ্যত গাঢ় হয়েছে। এ হেন চন্দ্রবাবু কিন্তু এ দিন কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীদের শপথানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কিন্তু মমতার মতো অনুপস্থিত থাকেননি!

আসলে, অন্ধ্রপ্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়তে এখন মরিয়া চন্দ্রবাবু নায়ডু। ফলে কংগ্রেস তথা রাহুলকে সব রকম ভাবে তুষ্ট করে চলছেন চন্দ্রবাবু। একই দায় রয়েছে ডিএমকে নেতা স্ট্যালিনেরও।

চুম্বকে, আপাত ভাবে যে বিরোধী জোট মাঝে মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা আসলে শর্ত সাপেক্ষে। ভোটের আগে প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বার্থ নিয়ে অধিক চিন্তিত। এবং লোকসভা ভোটে জোট হলেও তা হবে রাজ্যস্তরে। জাতীয় স্তরে আদৌ জোট হবে, নাকি তার দরকারই পড়বে না, সেটা বোঝা যাবে উনিশের ফল প্রকাশের পর। ততদিন এই লুকোচুরি চলবে।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন

Comments are closed.