সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

কেন হারলেন রাহুল গান্ধী? অমেঠীর সাত ভোটার শোনালেন হারানোর সাতকাহন

  • 88
  •  
  •  
    88
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশকের পর দশক যে অমেঠীতে কাজ করত কংগ্রেসের আবেগ, সেখানেই এ বার ঘুরে গিয়েছে খেলা। কংগ্রেসের গড় ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে গেরুয়া ঝড়। ব্যবধানটাও কম নয়। বিজেপি-র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির কাছে প্রায় ৫৫ হাজার ভোটে হেরেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল। কিন্তু কেন হারতে হল রাহুলকে? একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম অমেঠীর সাত জন মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটা সার্বিক আন্দাজ করার চেষ্টা করেছে। আর সেখানেই উঠে এসেছে রাহুল সম্পর্কে অমেঠীর বিরক্তি। শুধুই বিরক্তি।

ওই সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, অমেঠীর সাত ভোটারের সাতকাহন। কেউ আইনজীবী তো কেউ সাইকেল গ্যারাজের মেকানিক, কেউ গৃহবধূ তো কেউ মুটিয়া মজদুরের কাজ করেন। এমনই সমাজের সমস্ত অংশকে তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

আর প্রত্যেকেই তিনটি বিষয়কে তুলে ধরেছেন রাহুলের হারের কারণ হিসেবে। এক, যত দিন ধরে রাহুল জিতছেন অমেঠীতে, ততদিন ধরে শুধু ভোটের সময় তিনি আসেন, বাকি সময়ে তাঁর দেখাই পাওয়া যায় না। দুই, অমেঠীতে কোনও বিকাশের কাজ হয়নি। মুখে যা বলেছেন তার ছিটেফোঁটাও জোটেনি অমেঠীর ভাগ্যে। তিন, প্রত্যেকেই বলেছেন, রাজীব গান্ধী যতটা আন্তরিক ছিলেন অমেঠীর প্রতি, রাহুল তার এক শতাংশও নন। ক্ষোভের সঙ্গে অনেকে বলেছেন, উনি ভেবেছিলেন অমেঠীর মানুষ বোধহয় সব ভুলে যায়। উনি এ বার শিক্ষা পেয়ে গিয়েছেন। রাজনৈতিক সচেতন অমেঠীর এক সাইকেল গ্যারাজের মেকানিক বলেন, “গত পাঁচ বছর নয় বিজেপি-র সরকার চলেছে। তার আগে তো দশ বছর মনমোহন সিং-এর সরকার চলেছে। তখনও এখানকার উন্নয়ন হয়নি।”

ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি যখন কথা বলতে যান অমেঠীর ভোটারদের সঙ্গে, একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, সেলুনে দাড়ি কামাতে বসা এক যুবক স্পষ্ট বলছেন, “সারা বছর রাহুল গান্ধী মানুষের সমস্যা নিয়ে কোনও রা কাড়েন না। আর ভোট এলেই এখানে চলে আসেন। আমরাও তাই এ বার ভোট দিইনি তাঁকে।” এঁদের মধ্যে অনেকেই এমন রয়েছেন, যাঁরা এতদিন কংগ্রেসকেই ভোট দিয়ে এসেছেন। কিন্তু এ বার আর না। কংগ্রেসের টনক নড়াতে ভোট দিয়েছেন স্মৃতিকেই।

পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডও সম্ভবত আন্দাজ করেছিল অমেঠী এ বার রাহুলের জন্য সেফ নয়। তলায় তলায় অন্য বাতাবরণ তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই দ্বিতীয় রাস্তা হিসেবে কেরলের ওয়ানাড়ে প্রার্থী করা হয়েছিল দলের সভাপতিকে। সেটা না হলে এ বার আর সংসদে যাওয়া হতো না রাহুল গান্ধীর। দলের বিপর্যয়ের সঙ্গে অমেঠীর বিপর্যয়ও নাড়িয়ে দিয়েছে রাহুলকে। অনেকের মতে সে কারণেই ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন সনিয়া-পুত্র।

Comments are closed.