মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

প্রিয়ঙ্কার ফোনেও আড়ি পাতা হয়েছে, জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ, দাবি কংগ্রেসের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়ার ফোনেও ইজরায়েলি স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে হোয়াটস্যাপে আড়ি পাতা হয়েছে বলে দাবি করল কংগ্রেস। রবিবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেছেন, ফোনে যে আড়ি পাতা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যে লঙ্ঘিত হয়েছে, তা মেসেজ বার্তার মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ প্রিয়ঙ্কাকে জানিয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রফুল্ল পটেল ও এনসিপি নেতা তথা প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী শরদ পওয়ারের ফোনেও আড়ি পাতার ঘটনা ঘটেছে। এই গোটা ঘটনায় কংগ্রেস দায় চাপিয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের উপর।

আরও পড়ুন: ১২১ জন ভারতীয়ের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে, সেপ্টেম্বরেই জানিয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপ

একটি ইজরায়েলি সংস্থা যে ১২১ জন ভারতীয়ের মোবাইলে আড়ি পাতছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে, সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ভারতকে এ ব্যাপারে দ্বিতীয়বার সতর্ক করেছিল হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা ফেসবুক। প্রথমবার এব্যাপারে তারা সতর্ক করেছিল এ বছর মে মাসে। তাঁদের ফোনের নিরাপত্তা যে বিঘ্নিত হচ্ছে, সে কথা জানানো হয়েছিল ওই ১২১ জন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর প্রত্যেককে।

বুধবার ইজরায়েলের এই আইটি প্রতিষ্ঠান এনএসও-র বিরুদ্ধে অবৈধ নজরদারির অভিযোগ এনে একটি মামলা রুজু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। সেই মামলার শুনানিতে এক বিবৃতি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, ২০টি ভিন্ন দেশের প্রায় ১৪০০ মোবাইল ফোনে ম্যালওয়্যার ভাইরাসটি পাঠিয়েছে এনএসও গ্রুপ। তাদের তালিকায় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্তা, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বও রয়েছে।মনে করা হয়েছিল, এই সাইবার হামলায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কারণ তথ্য বলছে, ২৯ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত– এই অল্প সময়ে অন্তত ১৪০০ গ্রাহকের মোবাইলের তথ্য হ্যাক করা হয়েছে। তবে মোট সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রযুক্তিবিদদের।

শনিবার হোয়াটসঅ্যাপ কাণ্ড নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ও। তিনি বলেছিলেন,  “এটা খুবই চিন্তার বিষয়। আমার ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে। আমি সেটা বুঝতেও পারছি। সব কিছুতেই নজরদারি চালানো হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। সরকারি কাজকর্ম করতে ব্যাঘাত ঘটছে।” তিনি আরও বলেন, ““এটা ফ্যাক্ট যে ইজরায়েলের এনএসও সংস্থা ফোন ট্যাপ করার ওই সফটওয়্যার কেন্দ্রকে দিয়েছে। এর সঙ্গে দুটি রাজ্যের সরকারও যুক্ত আছে। আমি তাদের নাম বলব না। কিন্তু তারমধ্যে একটি রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে। এই ট্যাপ করার জন্য একটি বিশেষ গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই গাড়ির মধ্যে ওই সফটওয়্যার রয়েছে। গাড়ি যেখানে যাচ্ছে সেখানকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যে কারও ইচ্ছে ফোন ট্যাপ করা কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তথ্য নিয়ে নিচ্ছে।”

Comments are closed.