বুধবার, অক্টোবর ১৬

পাঁচ বছরে দেশের শ্রেষ্ঠ রাজ্য হবে কাশ্মীর, ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে কী কী বললেন অমিত শাহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত পাশ হয়ে গিয়েছে সংসদে। সিলমোহর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতিও। তারপর দিনভর বিতর্ক চলেছে সংসদের ভিতরে ও বাইরে। উত্তাল গোটা দেশ। এর মধ্যেই সোমবার সন্ধেবেলা রাজ্যসভায় জবাবি ভাষণ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই তিনি বললেন, “জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের মুকুটমণি। পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শ্রেষ্ঠ রাজ্য হবে। উপত্যকাকে কিছুতেই কসভো হতে দেব না।”

দীর্ঘ জবাবি ভাষণে আর কী কী বললেন

৩৭০ ধারা বিলোপের সঙ্গে সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরে এক রক্তপাতের অধ্যায়ের শেষ হল। দশকের পর দশক ধরে যা চলছিল, তার অবসান হয়েছে।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করছি। যিনি এই দাবি নিয়ে প্রথম আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। প্রাণ দিয়েছিলেন।

কাশ্মীরে গত ছ’দশকে ৪১ হাজার ৮৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ তাঁদের স্মরণ করছি। এর হিসাব কে দেবে?

৩৭০ ধারা কী ভাবে বিলোপ করা হল, সবাই তার প্রক্রিয়াগত দিক নিয়ে কথা বলছে। কেউ একবারও বলছে না, এটা ঠিক না ভুল। এর প্রয়োজনীয়তা আছে কি নেই।

উপত্যকার গরিবির জন্য দায়ী ৩৭০ ধারা। ২০০৪ সাল থেকে ২ লক্ষ ৭৭ হাজার কোটি টাকা জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু উন্নতি কী হয়েছে? সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়েছে সেখানে?

২০১১-১২ অর্থবর্ষে গোটা দেশে মাথাপিছু সরকার বরাদ্দ করেছিল ৩ হাজার ৬৮৩ টাকা। সেখানে কাশ্মীরের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সরকারের মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল ১৪ হাজার ২৫৫টাকা। একই ভাবে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে সারা দেশে মাথাপিছু বরাদ্দ যখন ৮হাজার ২২৭ টাকা, তখন কাশ্মীরের অধিবাসীদের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ২৭ হাজার ৩৫৮টাকা। এই টাকা নীচ পর্যন্ত যায়নি। তিনটি পরিবার সব নিয়ে নিয়েছে।

৩৭০ ধারাকে ব্যবহার করেই উপত্যকায় তিনটি পরিবার দুর্নীতি করেছে। ওখানে কোনও দুর্নীতি দমন শাখাকে ঢুকতে দেয় না।

জম্মু ও কাশ্মীরে সিমেন্ট ও লোহার এজেন্সি নিয়ে রেখেছে ওই তিনটি পরিবার। সিমেন্টের দাম বস্তা পিছু ১০০ টাকা বেশি।

জম্মু কাশ্মীর ব্যাঙ্কে অডিটর গেছেন অডিট করতে, আর ঠাণ্ডার মধ্যে ওঁদের ঘাম বেরিয়েছে। যদি দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যায়।

ওই এক ৩৭০ ধারাকে ব্যবহার করে যে লোকের কাছে জমি আছে তাঁকে বেচতে দিচ্ছে না।
গোটা দেশ স্বীকার করে কাশ্মীর আর লাদাখ ভূস্বর্গ। বরফ, তালাব, উপত্যকা, পাহাড় সব আছে। কিন্তু পর্যটনকে সীমিত করে রেখেছে। একটা গণ্ডির মধ্যে বেঁধে রেখেছে। বড় হোটেল করতে গেলে জমি দরকার। জমি কিনে তা করা যাচ্ছিল না ওই ৩৭০ ধারার জন্য।

জমি কেনা বেচায় এই নিয়ম চালু থাকলে ছোট শিল্পই বা কী ভাবে হবে?

কাশ্মীরের কোনও মেয়ের বাইরে বিয়ে হলে তাঁরা বিয়ের পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা পায় না। তাঁদের সন্তানরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

সবাই বলছেন সংস্কৃতি ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। স্বাধীনতার পর থেকে এত তো রাজ্য সংযুক্ত হয়েছে, কোথায় ভাষা-সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে?

৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোটা হিন্দুস্তানের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর ঘুলমিলে যাবে।

উপত্যকার মানুষকে যাঁরা উস্কানি দেয়, খেপিয়ে তোলে, তাঁদের ছেলে-মেয়েরা লন্ডনে পড়াশুনা করে। তাঁদের চিন্তা নেই। তাঁরা চায়, উপত্যকার ছেলে-মেয়েদের অশিক্ষিত করে রাখতে। সন্ত্রাসবাদ শেষ হবে কী ভাবে?

জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের মুকুটমণি। পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শ্রেষ্ঠ রাজ্য হবে। কসভো হতে দেব না।
বলা হয়েছিল ৩৭০ ধারা অস্থায়ী। তা কি ৭০ বছর ধরে চলতে পারে?

Comments are closed.