রবিবার, অক্টোবর ২০

মোদীর হিটলিস্ট: উত্তরপ্রদেশ এক, দু’নম্বরে বাংলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের বছর দেড়েক আগে থেকেই বাংলায় যাতায়াত বাড়িয়ে  দিয়েছিল বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব। বারেবারে এসেছেন সর্বভারতীয় সভাপতি। বাংলাকে যে এ বার বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে গেরুয়া শিবির তা আন্দাজ করাই যাচ্ছিল। তাই বলে এত!

রবিবার শেষ দফার ভোট। বাংলায় বিষ্যুদবার প্রচার শেষ হলেও সারা দেশে প্রচার শেষ হয়েছে শুক্রবার বিকেলে। তা থেকে যে ছবি উঠে এসেছে তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিটলিস্টে উত্তরপ্রদেশের পরেই বাংলা। ভোট ঘোষণা হওয়ার পর শুক্রবার পর্যন্ত ১৪৪টি জনসভা ও রোড শো করেছেন মোদী। যার মধ্যে ৩৬টি করেছেন উত্তরপ্রদেশে। দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্যের পর মোদী সবচেয়ে বেশি জনসভা করেছেন বাংলাতে। মোট ১৮টি। অর্থাৎ প্রতি আড়াই খানা আসন পিছু একটি করে জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি বলে নয়, দেশের কোনও প্রধানমন্ত্রীই লোকসভা ভোটে বাংলায় এতবার এসেছেন বলে মনে করতে পারছেন না পর্যবেক্ষকদের অনেকেই।

উত্তরপ্রদেশে মোট আসন ৮০টি। আগেরবার সেখানে বিজেপি জিতেছিল ৭৩টি আসনে। এ বার পরিস্থিতি পাল্টেছে। বিজেপি-র বিরুদ্ধে সেখানে মহা গাঁটবন্ধন। আড়াই দশক পর সেখানে জোট বেঁধেছে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি। সেই ৯৩-এর নির্বাচনে কাঁসিরাম আর মুলায়ম সিং যাদব জোট করে লড়েছিলেন। তারপর থেকে দুই দলের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায় পরিণত হয়। কিন্তু গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া বিধানসভা ও লোকসভার উপনির্বাচন থেকেই জোটের প্রস্তুতি চলছিল। এ বারও তাই হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যে কোনও সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের কাছেই উত্তরপ্রদেশ ‘প্রায়োরিটি স্টেট’। কিন্তু বাংলাও এ বার সেই তালিকায় ঢুকে পড়েছে বিজেপি-র খাতায়।

বাংলার পরেই মোদী সবচেয়ে বেশি মিটিং করেছেন ওড়িশায়। অনেকের মতে উত্তর ভারতে বিজেপি এ বার বেশ কিছু আসন হারাতে পারে। তাই গেরুয়া শিবিরের টার্গেট পূর্ব ভারতের এই দুই রাজ্য থেকে আসন জিতে তা মেকআপ করা। সে কারণেই বাংলাকে পাখির চোখ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মোদী। শুধু মোদী নন। বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতাদের লাইন লেগে গিয়েছিল বাংলায়। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, যোগী আদিত্যনাথ, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবরা দফায় দফায় বাংলায় এসে প্রচার করেছেন।

সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে জনসভা ও র‍্যালিতে মোদীর থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তাঁর সংখ্যা ১২৫। বাংলাতে মোদীর থেকে কয়েক যোজন দূরে রাহুল। যেখানে এ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী জনসভা করেছেন ১৮টি, সেখানে রাহুলের মোট জনসভার সংখ্যা সাকুল্যে তিন। মালদহ, রায়গঞ্জ এবং সর্বশেষ পুরুলিয়া।

মোদীর এই ধারাবাহিক বাংলায় আসা এবং জনসভার সংখ্যা নিয়ে বিজেপি নেতারা আশা দেখলেও, আমল দিচ্ছে না তৃণমূল। বাংলার শাসক দলের নেতাদের কথায়, “একজন প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করেছেন। আরও পারিষদদের পাঠিয়েছেন। কিন্তু ২৩ তারিখ বিকেলে ওরা বুঝতে পারবে, সবটাই ভষ্মে ঘি ঢালা হয়েছে।”

Comments are closed.