বুধবার, জুলাই ১৭

‘আমরা টার্গেট মিস করিনি’, দাবি বালাকোট মিশনের দুই স্কোয়াড্রন লিডারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : “যখন জানলাম পাকিস্তানে হামলা করবো, তখন উত্তেজনায় আমরা বেশ কিছু সিগারেট খেয়ে ফেলেছিলাম”, এমনটাই জানিয়েছেন বালাকোটে হামলা চালানো ভারতীয় বায়ুসেনার এক স্কোয়াড্রন লিডার। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার বদলা হিসেবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার হামলার পরে হামলার সত্যতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বায়ুসেনার তরফে বারবার বলা হয়েছে, হামলা সফলভাবে করা হয়েছে। তারপরেও বিতর্ক থামেনি। এই বিষয়ে এ বার মুখ খুললেন দুই স্কোয়াড্রন লিডার। বললেন, “আমরা টার্গেট মিস করিনি। যেরকম পরিকল্পনা নিয়ে গিয়েছিলাম, তা সফল হয়েছে।”

সম্প্রতি এই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ভারতীয় বায়ুসেনার দুই স্কোয়াড্রন লিডার। যদিও তাঁদের নাম জানায়নি ওই সংবাদমাধ্যম। কিন্তু তাঁরা কী বলেছেন, তা বলা হয়েছে। ১২টি মিরাজ ২০০০ বিমানের মধ্যে দুটি বিমানের দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা। দু’জনের মধ্যে একজনের বক্তব্য, “এই পুরো অপারেশন হতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছিল। আমরা জঙ্গি শিবিরের উপর স্পাইস ২০০০ স্যাটেলাইট গাইডেড বম্ব ফেলেছিলাম।”

২৬ ফেব্রুয়ারি, এই অপারেশনে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধানত দু’ধরণের বোমা নিয়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। একটি হলো স্পাইস ২০০০। এই বোমার বিশেষত্ব হলো, যেখানে নিক্ষেপ করা হবে, সেখানে প্রথমে গর্ত করে অনেকটা ভিতরে ঢুকে যাওয়ার পর তা বিস্ফোরণ হবে। অর্থাৎ একটা তিনতলা বাড়ির উপর তা নিক্ষেপ করা হলে তা প্রথমে ছাদ ফুটো করে একতলায় পৌঁছে তারপর বিস্ফোরণ ঘটাবে। অন্য বোমাটি ছিল ক্রিস্টাল মেজ। এই বোমার বিশেষত্ব হলো, যেখানে নিক্ষেপ করা হবে, সেখানে আঘাত করার সময় সেখানকার ভিডিয়ো এসে যাবে বিমানে। অর্থাৎ ধ্বংস করার সঙ্গে তার প্রমাণও পাঠিয়ে দেয় এই বোমা।

সাক্ষাৎকারে এক স্কোয়াড্রন লিডার জানিয়েছেন, আকাশে মেঘ থাকার জন্য ক্রিস্টাল মেজ বোমা নিক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু যে ছ’টি স্পাইস ২০০০ বোমা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ৫টিকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “স্পাইস ২০০০ যে সঠিক নিশানায় আঘাত করেছে, এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। কারণ এই বোমা তৈরি এমনভাবে হয় যে তা সঠিক নিশানায় আঘাত করে।” কিন্তু হামলার পরে অনেক বিশেশি সংবাদমাধ্যম বালাকোটের জঙ্গি শিবিরের ছবি তুলে যে দাবি করেছিল বিল্ডিংগুলো ঠিক আছে। এর উত্তরে তিনি বলেন, “স্যাটেলাইট ইমেজ যে উচ্চতা থেকে তোলা হয়, তাতে বোঝা সম্ভব নয় বিল্ডিংয়ের আসল অবস্থা। কারণ এই বোমা আঘাত করে বিল্ডিংয়ের ভিতরে ঢুকে। আসল আঘাত হয় নীচে। উপর থেকে দেখে তা বোঝা যায় না।”

অবশ্য অন্য স্কোয়াড্রন লিডার আরও একটি সম্ভাবনার কথা বলেন। তিনি বলেন, “হামলার পরে পাকিস্তান বিল্ডিং মেরামত করার চেষ্টাও করতে পারে। কারণ হামলার ৪৩দিন পরে বিদেশি সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে তা মেরামত করে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু আমরা যে হামলা ঠিকমতো করেছিলাম তা নিশ্চিত।” কিন্তু এই হামলার সময় পাক বায়ুসেনার কোনও বিমান তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেনি। এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে হামলা করেছিলাম। আমাদের র‍্যাডারে তো কোনও পাক বিমান ধরা পড়েনি। তবে ফিরে আসার সময় একটা পাক যুদ্ধবিমান পিছু নিয়েছিল। ততক্ষণে কাজ সেরে আমরা ভারতের আকাশে ঢুকে গিয়েছি।”

Comments are closed.