শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

‘আমি ইচ্ছা করেই রবার্টকে ছাড়তে গিয়েছিলাম’, দায়িত্ব নিয়েই স্ট্রেট ব্যাটে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রিয়ঙ্কার

শঙ্খদীপ দাস

আগে কালো রঙের একটা ল্যান্ড রোভার ছিল। এখন একটা অফ হোয়াইট সাদা গাড়ি। ল্যান্ড ক্র্যুজার।

অ্যাঙ্কেল লেন্থ লেগিংসের উপর স্টিল গ্রে রঙের কুর্তি! গলায় স্পার্কলিং হোয়াইট কালারের সিল্কের স্কার্ফ জড়ানো। বয়েজ কাট ধুসর-কালো চুল বরাবর যেমন ঈষৎ উস্কো খুস্কো থাকে, তেমনই। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এমন গ্ল্যামার ইদানীং নেই। এক্কেবারে নেই।

বিশ গজ দূরে চব্বিশ নম্বর আকবর রোডের বাইরে গাড়ি তখন নড়ছে না। উঠোনে থই থই ভিড়। কংগ্রেস কর্মী, নেতা, সাংবাদিক, চিত্র সাংবাদিক মায়,- বোঝাই যাচ্ছে কিছু একটা ঘটছে।

তা ঘটেছে বটে।

প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া যে সক্রিয় রাজনীতিতে নামছেন, ২৩ জানুয়ারি ঘোষণা করেছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী। নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে এর পর মাঝে কয়েক দিন সময় নিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা। তার পর যেন খনার বচন মেনে ময়দানে নামলেন তিনি,- মঙ্গলে উষা বুধে পা।

১২ নম্বর তুঘলক লেনে রাহুল গান্ধীর সরকারি বাসভবনের পিছনের সরু একটা গলি বেয়ে ঔরঙ্গজেব রোডে পৌঁছে যাওয়া যায়। অনেক সময়েই সাংবাদিকদের এড়াতে কংগ্রেস নেতারা বা অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা ওই রাস্তা দিয়ে রাহুলের বাড়ি পৌঁছন। আবার এসপিজি-র নজর এড়িয়ে রাহুলের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে সাংবাদিকরা সে পথ কতবার যে ধরেছেন ইয়ত্তা নেই। মঙ্গলবার প্রিয়ঙ্কা সেই পথ দিয়েই রাহুলের বাড়িতে ঢুকেছিলেন। বেরিয়েও ছিলেন সেই পথ দিয়েই। তার পর ঔরঙ্গজেব রোডে সরকারি বাংলোগুলোর পিছনে সার্ভিস রোডের ধারে একটা ঝুপড়ি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। বিছানায় শুয়ে একটি প্রতিবন্ধী শিশু। মাঝে মধ্যেই তাঁকে দেখতে যান প্রিয়ঙ্কা। গতকালও গিয়েছিলেন। তার পর তাঁর কুশল সংবাদ নিয়ে, এক গ্লাস জল খেয়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু ওঁদেরই বাড়ির কেউ একজন সেই ছবি, ভিডিও তুলে রাখেন মোবাইলে।

বলতে গেলে মঙ্গলে এ ভাবেই মহরৎ হয়ে গেছিল। বুধবার সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দলের সদর দফতরে পা রাখলেন প্রিয়ঙ্কা। কংগ্রেস সদর দফতরের মূল ভবনের সিংহ দরজা দিয়ে ঢুকে সোজাসুজি কংগ্রেস সভাপতির ঘর। এখন রাহুল সেখানে বসেন। তাঁর বাঁ দিকের ঘরটায় গিয়ে বসেন প্রিয়াঙ্কা। যুব কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক হয়ে রাজীব গান্ধীও ওই ঘরেই বসেছিলেন। বাবার সেই চেয়ার এখন নেই, আবার দেখতে গেলে আছেও তো! সেখানেই বসে পড়লেন রাজীব-সনিয়ার আদরের মেয়ে। ইন্দিরা গান্ধীর বড় আদরের নাতনি।

তার আগে যেমন হয়, সাংবাদিকরা ছেঁকে ধরেন তাঁকে। কিছুক্ষণ আগেই স্বামী রাবর্ট বঢ়ড়াকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতরে ছেড়ে এসেছেন তিনি। এই গাড়িতেই। স্বভাবতই সেই প্রশ্নও উঠল।

কংগ্রেসের সদর দফতর তথা চব্বিশ নম্বর আকবর রোড এবং আর দশ নম্বর জনপথ তথা সনিয়া গান্ধীর সরকারি বাসভবনের একই পাঁচিল। এ পাড়া প্রিয়াঙ্কার কাছে সেই ছোট থেকে হাতের তালুর মতো চেনা। দশ নম্বর জনপথের ঠিক উল্টো দিকে ২ নম্বর মতিলাল নেহেরু মার্গের বাড়িতে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের দফতর ছিল। মাসে একবার মিটিং বই সেখানে কিছু হত না। বছর কয়েক আগে অবধি রোজ ছেলে-মেয়েকে গাড়িতে বসিয়ে নিজেই ড্রাইভ করে সেখানে আসতেন প্রিয়ঙ্কা। সেই কালো ল্যান্ড রোভারটা। গলির মধ্যে গাড়িটা রেখে ভিতরে যখন ঢুকতেন, তখন তিন জনের হাতেই ব্যাডমিন্টনের র‍্যাকেট।

কিন্তু সেই প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে ৬ ফেব্রুয়ারির প্রিয়ঙ্কার মিল খুঁজতে গেলে নির্ঘাত ভুল হবে! এমনিতে হাসছিলেন। রবার্টের ব্যাপারে প্রশ্ন শুনে চোয়াল যেন শক্ত হয়ে গেল। বললেন, “হ্যাঁ, আমি ইচ্ছা করেই তো আমার স্বামীকে ইডি দফতরে ছেড়ে আসতে গিয়েছিলাম। আমি আমার স্বামীর পাশেই রয়েছি। এবং সোজাসুজি একটা বার্তাও দিতে চিয়েছি।”

লড়াই এ বার হবে স্ট্রেট ব্যাটে। শিগগির বেনারস যাচ্ছেন তিনি। নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচন কেন্দ্র, পূর্ব উত্তরপ্রদেশের বেনারস। প্রিয়ঙ্কার প্রথম অ্যাসাইনমেন্টও পূর্ব উত্তরপ্রদেশ।

আরও পড়ুন 

ইডি অফিসে হাজিরা রবার্টের, গেট অবধি ছেড়ে আসলেন পত্নী প্রিয়ঙ্কা

Shares

Comments are closed.