দিল্লিতে শুরু ভোটগ্রহণ, শাহিনবাগের প্রতিবাদের মাঝেই মর্যাদার লড়াইয়ে কেজরি-শাহ

গত পাঁচ বছরে জল, বিদ্যুৎ ফ্রি করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ বনাম কেন্দ্রের উন্নয়ন। আরও একবার আম আদমি পার্টি নাকি এবার বিজেপি। এই সব প্রশ্ন নিয়েই শুরু হয়েছে দিল্লির ভোটগ্রহণ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরবিন্দ কেজরিওয়াল বনাম নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ। গত পাঁচ বছরে জল, বিদ্যুৎ ফ্রি করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ বনাম কেন্দ্রের উন্নয়ন। আরও একবার আম আদমি পার্টি নাকি এবার বিজেপি। এই সব প্রশ্ন নিয়েই শুরু হয়েছে দিল্লির ভোটগ্রহণ। ইলেক্ট্রনিক ভোটযন্ত্রে জনমত বন্দি হয়ে গেলেও দিল্লির কুর্সি কার দখলে তা জানা যাবে মঙ্গলবার অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি।

    কেন্দ্র শাসিত দিল্লির মোট আসন ৭০টি। গতবার অরবিন্দ কেজরিওয়াল তথা আপের সামনে দাঁড়াতে পারেনি কোনও দলই। কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস, বিজেপি। একাই ৬৭টি আসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছিলেন কেজরি। কিন্তু এবার?

    দিল্লি দখলে মরিয়া গেরুয়া শিবির। অনেকে বলেন বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা ভোট মিটলেই পরের ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দেন। বিজেপিও খানিকটা তেমনই। তাঁদের অভিধানে বসে থাকা নেই। তাই লোকসভা ভোটের দু’মাসের মধ্যেই দিল্লির বিধানসভা ভোটের নির্বাচনী সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন অমিত শাহ, জগৎপ্রকাশ নাড্ডারা। অমিত শাহ নিজে বটেই, প্রকাশ জাভড়েকর, মনোজ তিওয়ারিদের মতো সংগঠন বোঝা ১১ জন নেতাকে বিধানসভা ভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, তীব্র মেরুকরণের আবহেই এবার ভোট হচ্ছে দিল্লিতে। এবং এই মেরুকরণের পারদ চড়িয়েছে বিজেপি-ই। পাল্টা গত পাঁচ বছরে তাঁর সরকার কী কী কাজ করেছে সেটাকেই প্রচারে হাতিয়ার করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একদিকে শাহিনবাগ, অন্যদিকে জামিয়া মিলিয়া জমায়েত—এর মাঝেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন দিল্লির মানুষ।

    ভোটের পূর্বাভাষ দিতে গিয়ে বেশ কয়েকটি সংস্থার সমীক্ষা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। তাতে প্রায় সব সংস্থাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিচ্ছে আপকে। ম্যাজিক ফিগার ৩৬-এর বেশি আসন পাবে বলেই অনুমান করেছে তারা। যদিও এই সবকটি সমীক্ষাই শেষ হয়েছে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। ফলে তারপর থেকে অনেক জল গড়িয়েছে। শাহিনবাগ, জামিয়ার সামনে গুলি চালানো থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে সরাসরি আতঙ্কবাদী বলে দেওয়ার মতো উগ্র মেরুকরণ ঘটেছে দিল্লিতে।

    লোকসভা ভোটে ৩০০-র বেশি আসন নিয়ে সরকারে এলেও রাজ্যগুলির ভোটে বিশেষ সুবিধে পায়নি বিজেপি। হরিয়ানায় টায়েটুয়ে সরকার গড়েছে গেরুয়াশিবির। মহারাষ্ট্রের মসনদ হাতছাড়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের জোট শরিক শিবসেনা বেরিয়ে গিয়ে কংগ্রেস-এনসিপির সঙ্গে সরকার গড়েছে। হাতছাড়া হয়েছে ঝাড়খণ্ডের মসনদও। ফলে ক্রমশ রাজ্যগুলি থেকে ফিকে হতে শুরু করেছে গেরুয়া রঙ। তাই যেখানে বসে মোদী-শাহ দেশ চালান সেখানেও যদি বিজেপিকে হারতে হয় তাহলে তা ধাক্কা বইকি। তাই কোমর বেঁধে নেমে প্রচার করেছেন তাবড় নেতারা। এখন দেখার ১১ তারিখ ইভিএম থেকে কী ফল বেরোয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More