১০ টাকায় উন্নতমানের ফেস মাস্ক আনছে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার, ভাইরাস ড্রপলেট আটকাতে থাকবে বিশেষ ফিল্টার

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় ইসরোর পরেই নাম বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের। কোভিড মোকাবিলায় এবার কোমর কষেই নামল দেশের অন্যতম বড় এই স্পেস রিসার্চ সেন্টার। দুই বিজ্ঞানী পি ভেনুপ্রসাদ ও ডক্টর অনিতা এস বানিয়েছেন এমন উন্নতমানের ফেস-মাস্ক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্বকের জন্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। নাক ও মুখের জন্য আলাদা ব্যবস্থা। ভাইরাস ড্রপলেট কোনওভাবেই ঢুকতে পারবে না নাক বা মুখ দিয়ে। শ্বাসপ্রশ্বাসেও সমস্যা হবে না। দেশীয় প্রযুক্তিতে এমনই উন্নতমানের ফেস-মাস্ক বানালেন ভারতের ঐতিহ্যশালী বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের দু‘জন বিজ্ঞানী।

    ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় ইসরোর পরেই নাম বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের। কোভিড মোকাবিলায় এবার কোমর কষেই নামল দেশের অন্যতম বড় এই স্পেস রিসার্চ সেন্টার। দুই বিজ্ঞানী পি ভেনুপ্রসাদ ও ডক্টর অনিতা এস বানিয়েছেন এমন উন্নতমানের ফেস-মাস্ক। দেশের বাজারে এই মাস্ক পাওয়া যাবে মাত্র দশ টাকায়।

    গবেষক পি ভেনুপ্রসাদ বলেছেন, এই মাস্কের উপকরণ খুবই সাধারণ। বানানোর খরচও কম। অথচ উন্নতমানের। তাই খুব কম দামে বাজারে আনা হচ্ছে এই মাস্ক। যে কেউ চাইলে তৈরি করতে পারেন।

    আরও পড়ুন: এদেশেই কোভিডের সম্ভাব্য টীকা বানিয়ে ফেলেছে ভারত বায়োটেক! ‘কোভ্যাক্সিন’ অনুমতি পেল হিউম্যান ট্রায়ালের

    কেমন হবে এই মাস্ক? পি ভেনুপ্রসাদ ও ডক্টর অনিতার কথায়, এই মাস্কের দুটি জ়োন রয়েছে। একটি নাকের জন্য অর্থাৎ নাসাল পার্ট ও অন্যটি মুখের জন্য অর্থাৎ ওরাল অ্যারোসল আটকাতে পারবে। এই দুটি অংশ একসঙ্গে বুনে মাস্ক তৈরি হয়েছে। নাকের অংশটা বিশেষভাবে বোনা হয়েছে যাতে শ্বাস নিতে কোনও সমস্যা না হয়, পাশাপাশি ভাইরাস ড্রপলেটও আটকাতে পারে। মুখের অংশও সেইভাবেই বানানো। ডক্টর অনিতা বলেছেন, নাক ও মুখে এমনভাবে ফিট করবে এই মাস্ক যার ফাঁক গলে প্যাথোজেন ঢুকতে পারবে না। বিশেষ রকম ফিল্টারও লাগানো রয়েছে এই মাস্কে যা ভাইরাল স্ট্রেনকে আটকে দিতে পারবে। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মাস্ক বেশিক্ষণ ব্যবহারে নাক ও মুকের ত্বকে র‍্যাশ বা চুলকানি হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি হতেও দেখা গেছে। তবে এই মাস্কে তেমন কোনও সমস্যা হবে না। প্লাস্টিকজাতীয় উপাদান না থাকায় এই মাস্ক বায়োডিগ্রেডেবলও।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে থ্রি-লেয়ার মাস্ক ব্যবহারেরই নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সার্জিক্যাল মাস্কের থেকে আলাদা এই ধরনের ফেবরিক মাস্কে (নন-মেডিক্যাল) তিনটি লেয়ার বা স্তর থাকে যা ভাইরাল স্ট্রেনকে শরীরের সংস্পর্শে আসতে বাধা দেয়। এমন থ্রি-লেয়ার মাস্ক ভেষজ উপাদানের নির্যাস থেকে তৈরি করছে পুণের ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড টেকনোলজি (DIAT) । আয়ুষ মন্ত্রকের অনুমোদনে আয়ুর্বেদিক উপাদান থেকে তৈরি এই মাস্ক  ‘ভাইরাস নিউট্রালাইজ়ার’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ রেসপিরেটারি ড্রপলেট যদি মাস্কের সংস্পর্শে আসে তার মধ্যে থাকা ভাইরাল স্ট্রেনকে এই মাস্কের তিনটি স্তর পার হতে হবে। এই তিন স্তরে এমন উপাদান থাকবে যা ভাইরাসের সংক্রামক আরএনএ প্রোটিনকে ধীরে ধীরে অকেজো করে দেবে। নিষ্ক্রিয় ভাইরাল প্রোটিনের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা থাকবে না। সুতির এই থ্রি-লেয়ার মাস্কের নাম ‘পবিত্রপতি’যা তৈরি হচ্ছে নিম তেল, হলুদ, তুলসী, জোয়ান, মরিচ, গাম অ্যারাবিক, লবঙ্গ, চন্দন এবং জাফরানের নির্যাস থেকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More