লাদাখে ইন্দো – চিন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে, আশা আমেরিকার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাত থেকে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিন সেনার সংঘর্ষে দু’দেশের অন্তত ৬৩ জন হতাহত হয়েছেন বলে খবর। ১৯৬২ ও ১৯৬৭ সালের পর ফের একবার চিনা আগ্রাসন দেখা দিয়েছে লাদাখ সীমান্তে। যদিও ভারতের তরফে তার জবাব দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির শিগগির শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাধান হবে, এমনটাই আশা করছে আমেরিকা।

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “ভারত ও চিন দু’দেশই চাইছে সীমান্তে আগ্রাসন কমিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার। আমেরিকাও বিশ্বাস করে শান্তিপূর্ণ ভাবেই এই সমস্যার সমাধান হবে।”

ওই মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, আমেরিকা এই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে বেরিয়ে না যায়, সেই চেষ্টা করা হবে মার্কিন প্রশাসনের তরফে। এই সংঘর্ষে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

গত মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভারত ও চিনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া এই সমস্যার সমাধানের জন্য মধ্যস্থতা করতে তিনি রাজি। ভারত ও চিন দু’দেশের প্রধানদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা হয় ট্রাম্পের। কিন্তু ভারত বা চিন কারও তরফেও ট্রাম্পের সাহায্য চাওয়া হয় নি। যদিও এবার ফের একবার নিজে থেকেই সাহায্যের হাত বাড়াল আমেরিকা।

আমেরিকার এই বার্তার পরে কূটনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে ভারত ও চিন দু’দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ভিন্ন। একদিকে যখন ভারতের সঙ্গে গত কয়েক বছরে সম্পর্ক অনেক গভীর হয়েছে ট্রাম্প সরকারের, অন্যদিকে তখন বিশ্ব জুড়ে করোনা সংক্রমণের জন্য আমেরিকা ও চিন মৌখিক লড়াই চলেছে। দু’দেশ দু’দেশকে একের পর এক আক্রমণ করে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে চিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যে ভারতের পাশে দাঁড়াবেন, তা স্বাভাবিক। এখন দেখার ভারতের তরফে আমেরিকার কাছে কিছু আবেদন করা হয় কিনা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত নিজেই এই সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী।

সোমবার রাতে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান ও শাইওক নদীর মোহনার কাছে যে স্থানে ভারত ও চিনা সেনার সংঘাত বাঁধে তাকে ১৪ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্ট বলা হয়। ভারত ওই অঞ্চলে কৌশলগত কারণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ করছে। এক, শাইওক নদীতে সেতু তৈরি করেছে। দুই, আর তার মাধ্যমে দারবুক শাইওক-দৌলত বেগ ওলদি রাস্তা সংস্কার করে মজবুত করেছে। এই রাস্তা কারাকোরাম পাসের দক্ষিণে শেষ আউটপোস্ট পর্যন্ত যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তারই প্রতিবাদ করতে ১৪ পয়েন্টে তাঁবু গেড়েছিল চিনা সেনা। চিনা সেনা ১৫ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্টেও তাঁবু গেড়েছিল। তার পাল্টা হিসাবে কয়েক গজ দূরে তাঁবু গেড়েছিল ভারতীয় সেনা। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশের সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্তা স্তরে আলোচনার পর ওই তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল পিএলএ-র।

সোমবার রাতে ১৪ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্টে চিনা সেনার তাঁবু সরাতে গিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। তখনই প্রথমে উঁচু জায়গা থেকে পাথর ছুড়তে শুরু করে চিনা বাহিনী। তার পর লোহার রড নিয়ে মারতে নেমে পড়ে। পাল্টা আঘাত করে ভারতীয় সেনাও। তার জেরেই দুই বাহনীর অন্তত ৬৩ জন হতাহত হন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More