ভারতের থেকে অন্য অনেক দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪০ গুণ বেশি, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই মুহূর্তে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বে তৃতীয় স্থানে ভারত। কিন্তু তারপরেও অনেক দেশের তুলনায় ভারতের করোনা পরিস্থিতি ভাল বলেই জানাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এমনকি শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, মৃতের সংখ্যাতেও ভারতের থেকে অনেক দেশের অবস্থা অনেক খারাপ বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

    বৃহস্পতিবার ভারতের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন। তিনি বলেন, ব্যাপারটাকে সঠিক প্রেক্ষিত থেকে দেখা উচিত। ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় জনবহুল দেশ। এখানে প্রতি ১০ লক্ষে ৫৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্বে প্রতি ১০ লক্ষে আক্রান্তের গড় হার ১৪৫৩।

    এরসঙ্গেই ভারতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ও মৃত্যুহার নিয়েও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতে করোনায় মৃত্যুহার ৩ শতাংশের নীচে। প্রতিদিনই তা আরও কমছে। ভারতের থেকে অনেক দেশে মৃতের সংখ্যা ৪০ গুণ বেশি। এর থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে, ভারতের করোনা পরিস্থিতি অন্যান্য অনেক দেশের থেকে ভাল।

    ডক্টর হর্ষ বর্ধন আরও বলেন, এই মুহূর্তে গুরুতর আক্রান্তদের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, দেশের ৮ শতাংশ আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ৩৯ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই জনসংখ্যা ৬০ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের মধ্যে হয়েছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৫ শতাংশ।

    করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এদিন মন্ত্রীগোষ্ঠীর বৈঠকে বসেন হর্ষবর্ধন। তিনি দাবি করেন, ভারতে গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি আজ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। তাঁরা ফের জানিয়েছেন, ভারতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়নি। কোনও কোনও অঞ্চলে সংক্রমণের সংখ্যা বেশি। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সারা দেশে সামাজিক সংক্রমণ হয়নি।” বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছিল, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার এখন ৬১.৫৩ শতাংশ।

    এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও পর্যন্ত ৬২.০৮ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মোট সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার ৩৭৭। এখনও অসুস্থ ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭৮৯ জন। সুতরাং যত জন এখনও অসুস্থ তাঁদের তুলনায় ২ লক্ষ ৬ হাজার ৫৮৮ জন বেশি মানুষ সেরে উঠেছেন।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সকালের বুলেটিনে দেখা যায়, একদিনে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৮৭৯। করোনা অ্যাকটিভ কেস অর্থাৎ শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আইসোলেশনে থাকা রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। আজকের হিসেবে দেশে মোট আক্রান্তের হিসেব ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৯৬। একদিনে ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৪৮৭ জনের। দেশে এখন মোট কোভিড মৃত্যুর সংখ্যা ২১ হাজার ১২৯।

    রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্রের করোনা সংক্রমণ চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। আক্রান্ত ২ লাখ ২৩ হাজার ৭২৪। মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ৪৪৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৬ হাজার ৬০৩। সংক্রমণে একদিনে মৃত্যুও হয়েছে ১৯৮ জনের। মহারাষ্ট্রে কোভিড সংক্রমণের বেশিরভাগই মুম্বইতে। সেখানে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। করোনা আক্রান্ত মহারাষ্ট্রে স্বস্তি দিচ্ছে ধারাভি ও ওরলি বস্তির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি।

    স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন, হটস্পট থেকে ক্রমেই করোনা-মডেল হয়ে উঠছে ধারাভি। গত কয়েকদিনে আক্রান্ত মাত্র একজন। বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের (বিএমসি) রিপোর্ট বলছে এপ্রিলেই ধারাভিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড়শোর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ধারাভিতে এখন কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির হার দিনে ১.৫৭%, যেখানে মুম্বইতে এই বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশের কিছু বেশি। ডাবলিং রেট অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুন হওয়ার সময়ও বেড়েছে ধারাভিতে। সুস্থতার হার প্রায় ৫০%।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More