সিএএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রসঙ্ঘ, হস্তক্ষেপের আবেদন মানবাধিকার কমিশনের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সারা দেশ জুড়ে যে বিক্ষোভ চলছে, তাতে হস্তক্ষেপ করুক ভারতের শীর্ষ আদালত। এই মর্মে আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার।

    রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের দফতর জেনেভা থেকে আবেদন করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আদালতের কাছে আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম রাষ্ট্রসঙ্ঘ বলেছে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতে যা চলছে তা নিয়ে হস্তক্ষেপ করুক সুপ্রিম কোর্ট। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার।

    যদিও এই পিটিশন দাখিল হওয়ার পরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবিশ কুমার বলেছেন, “সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি সংসদে প্রথমে বিল আকারে পেশ হওয়ার পর আইন আকারে পাশ হয়েছে।” একই সঙ্গে রবিশ কুমার বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে, দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বাইরের কেউ কিছু বলবে না।”

    রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা একেবারেই নজিরবিহীন ঘটনা। অতীতে এরকম কখনও হয়নি।

    কিন্তু কূটনীতিকদের মতে, নগারিকত্ব সংশোধন আইন ভাল-খারাপ যাই হোক রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের এই হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই নয়াদিল্লির পক্ষে বরদাস্ত করা সম্ভব নয়। ভারতের বিদেশনীতির মূল দর্শনের একটা ধারাবাহিকতা রয়েছে। সরকার আসে যায়। কিন্তু সেই দর্শন বদলায় না। সুতরাং এই অতিসক্রিয়তা মেনে নিলে তা ভবিষ্যতে বাড়বে বই কমবে না। বড় কথা হল, চিন ও পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্র তার সুযোগ নিতে ছাড়বে না।

    প্রাক্তন এক কূটনীতিকের কথায়, আসলে প্রতিষ্ঠান নয়, হতে পারে এর নেপথ্যে কাজ করছে কয়েকজন মানুষের অতিসক্রিয়তা। চিনে উইঘুরে সংখ্যালঘু মানুষের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে সে ব্যাপারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন মাথা গলাচ্ছে না কেন! সেই মুরোদ নেই কেন? ওই কূটনীতিকের কথায়, এ ব্যাপারে ঘরোয়া রাজনীতির বিরোধীদেরও উত্তেজিত হয়ে সুযোগ নেওয়া ঠিক হবে না। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে দেশের গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষের অসন্তোষ থাকলে তার প্রতিফলন নির্বাচনে পড়তে বাধ্য। প্রশাসনের উপরেও তাতে চাপ তৈরি হবে। কিন্তু তা বলে বাইরের শক্তির হাতে তামাক খাওয়া বুদ্ধিমত্তা হবে না।

    এদিন নয়াদিল্লি তথা সাউথ ব্লকের প্রতিক্রিয়াও ছিল যথেষ্টই কড়া। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, প্রতিবেশী দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছে। তাদের আশ্রয় দেওয়া ভারতের সনাতন অধিকার। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন কোনওভাবেই নাক গলাতে পারে না। তা ছাড়া যে আইন সংসদে পেশ হয়েছে তার সাংবিধানিক বৈধতাও খতিয়ে দেখেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুতরাং রাষ্ট্রসঙ্ঘের কমিশনের উচিত তাকে সম্মান জানানো।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More