মহারাষ্ট্রে উদ্ধবই মুখ্যমন্ত্রী? হাত বাড়াল এনসিপি, সায় গরিষ্ঠ কংগ্রেস বিধায়কের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকালে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভা থেকে যখন শিবসেনার প্রতিনিধি অশোক সাওন্ত ইস্তফা দেন, তখনই বোঝা গিয়েছিল মহানাটকীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে মারাঠা মুলুকে।

    ক্রমশ সেদিকেই এগোচ্ছে মুম্বইয়ে রাজনৈতিক পালাবদল। বিজেপি-র সঙ্গে দীর্ঘ তিন দশকের বন্ধুত্বের পর্ব চুকিয়ে মহারাষ্ট্রে সরকার বানানোর দাবি জানাতে পারেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারিরর কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে চলেছে শিবসেনা। সূত্রের খবর, এনসিপি জানিয়ে দিয়েছে তারা শিবসেনাকে সমর্থন দেবে। অধিকাংশ কংগ্রেস বিধায়কও সমর্থন জানানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন হাইকম্যান্ডের কাছে। তবে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত হতে সোমবার সন্ধে সাতটা বেজে যাবে বলে খবর।

    মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণা হয়েছে ২৪ অক্টোবর। তার পর প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চলল। কিন্তু বিজেপি-শিবসেনার মধ্যে কোনও রফা হয়নি। কারণ, শিবসেনা গোড়া থেকে দাবি জানিয়ে এসেছে সরকারের অর্ধেক মেয়াদ মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন তাঁদের প্রতিনিধি। কোনও অবস্থাতেই বরফ না গলায় শেষমেশ বিজেপি গতকাল রাজ্যপালকে জানিয়ে দেয় যে তারা সরকার গঠনের দাবি জানাবে না।

    এর পরেই শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেসের একাংশ নেতার মধ্যে আলোচনার গতি বেড়ে যায়। ভোটের ফল প্রকাশের দিন থেকেই এনসিপি নেতা শরদ পওয়ার বলছিলেন যে মানুষ তাঁদের বিরোধী আসনে বসার পক্ষেই রায় দিয়েছে। ফলে এনসিপি সরকার গঠনের জন্য কোনও চেষ্টা করবে না। একই কথা বলছিলেন কংগ্রেস নেতারাও। কিন্তু বিজেপি-শিবসেনা অক্ষে চিড় ধরার পর সেই পওয়ারেরই কৌশল বদলে যায়। ঘোলা জলে পোনা ধরতে নেমে পড়েন পওয়ার। অহমেদ পটেল ও সনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

    এনসিপি ও কংগ্রেস সূত্রের খবর, বিজেপি-রুখে দিতে তাদের কিছু নেতা খুবই আগ্রহী। এই পরিস্থিতিতে আজ সকালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হয়। তবে ওয়ার্কিং কমিটি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সনিয়ার উপরেই ছেড়ে দিয়েছে।

    ফলে এখন দেখার যে দশ নম্বর জনপথ কী সংকেত দেয়।

    স্বাধীনতা উত্তর সময়ে মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী পদের দখল মাত্র পাঁচ বছর ছিল শিবসেনার দখলে। কিন্তু বালাসাহেব নিজে কখনও মুখ্যমন্ত্রী হতে চাননি। প্রথমে মনোহর জোশীকে মুখ্যমন্ত্রীব করেছিলেন তিনি। পরে এক বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নারায়ণ রাণে। কিন্তু সময় বদলেছে। অনেকের মতে, একে তো উদ্ধবের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তা ছাড়া দলে এমন কেউ নেই যে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিয়ে মাতুশ্রীতে বসে থাকবেন তিনি। আশঙ্কা রয়েছে, তিনি বিজেপির সঙ্গে না আপস করে বসেন।

    তবে অনেকের মতে, খেলা আরও হবে। এখনও অনেক কিছু দেখার বাকি। কারণ, অমিত শাহরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকার লোক নন। বরং দেখা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে যাঁরা এনডিএ ছেড়েছেন তাঁদের শেষপর্যন্ত কী হাল করে ছেড়েছে বিজেপি। নীতীশ কুমার তো বিপ্লব বিসর্জন দিয়ে আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তা ছাড়া কংগ্রেস, এনসিপি বাইরে থেকে সমর্থন দিলে যে সরকার তৈরি হবে তা গোড়া থেকেই থাকবে ভঙ্গুর। কতটা কাজ করতে পারবে সেও প্রশ্ন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More