মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

যৌনচক্র, নারী পাচারের পর্দা ফাঁস, দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়ালকে খুনের হুমকি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারী নির্যাতন, যৌন হেনস্থা, নারী ও শিশু পাচারের মতো একাধিক চক্রের পর্দা ফাঁস করেছিলেন। সম্প্রতি রাজধানীর একটি অভিজাত শপিং মলের স্পা-এর আড়ালে চলা মধুচক্র সামনে এনেছিল মহিলা কমিশন। তার পর থেকেই লাগাতার খুনের হুমকি পাচ্ছিলেন মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান স্বাতী মালিওয়াল। এই হুমকি ফোনের সূত্র ধরেই শনিবার দুই মহিলাকে পাকড়াও করেছে দিল্লি পুলিশ। মধ্য ত্রিশের দুই মহিলাই পশ্চিম দিল্লির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

স্বাতী জানিয়েছিলেন, ফোনের ওপারে এক মহিলা কণ্ঠ প্রায়ই তাঁকে খুনের হুমকি দিত। আপত্তিকর শব্দও ব্যবহার করত। প্রথমে ব্যাপারটাকে গুরুতর বলে মনে করেননি স্বাতী। কিন্তু পরে দিবারাত্র এমন হুমকি ফোন আসতে থাকায় পুলিশে অভিযোগ জানান তিনি। তদন্তকারীরা জানান, ফোনের নেটওয়ার্ট ট্র্যাক করে দেখা যায়, দিল্লির নানা প্রান্ত থেকে ওই ফোন করা হত। মহিলা কণ্ঠও বদলে যেত মাঝে মাঝেই।

দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার তদন্তকারীদের অনুমান ধৃত দুই মহিলা ওই স্পা-এর সঙ্গেই জড়িত যেখানে মাসকয়েক আগে মধুচক্রের পর্দা ফাঁস করেছিলেন স্বাতী। গত ১৮ মে দিল্লির মহিলা কমিশনের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে ওই স্পা-এর ব্যাপারে জানিয়েছিলেন এক মহিলা। তিনি নিজেকে সাংবাদিক বলে দাবি করেছিলেন। ক্রেতা সেজে ওই স্পা-তে গিয়ে সেখানকার কথোপকথন তিনি গোপনে রেকর্ড করেন। সেই গোপন কথোপকথনও তিনি পাঠিয়েছিলেন দিল্লির মহিলা কমিশনে। সেই সূত্র ধরেই দিল্লির রোহিণী এলাকার ওই অভিজাত শপিং মলের স্পা-তে অভিযান চালায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ১১ জন কিশোরীকে।

২০১৫ সাল থেকে দিল্লির মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন স্বাতী। দিল্লিতে ঘটে চলা একের পর এক যৌনচক্রের পর্দা ফাঁস করেছিলেন তিনি। নির্ভয়া মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য তিনিই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে স্বাতী লিখেছিলেন, নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় অন্তত ছ’মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক। তিনি দাবি করেছিলেন, এত দিন ধরে মামলা চলে বলেই অপরাধীরা মনে করে, ঠিক আইনের ফাঁক গলে বেঁচে যাবে তারা।পুলিশ থেকে ফরেন্সিক বিভাগ, সকলেরই আরও একটু বেশি সক্রিয় হওয়া দরকার।

পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

Comments are closed.