শনিবার, মার্চ ২৩

বোর্ডে অঙ্ক কষছেন শিক্ষিকা, পিছনে বসে সফট ড্রিঙ্কসের সঙ্গে মদ মিশিয়ে খাচ্ছে দুই ছাত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘‘বাবা মদ খায় রোজ রাতে, লুকিয়ে টেস্ট করতে করতেই ভালো লেগে গেছে,’’ ছাত্রীদের মুখে এমন কথা শুনে তাজ্জব শিক্ষিকারা। ছাত্রীদের তখন খুব একটা হুঁশ নেই। মদের নেশায় টলতে টলতেই একটানা ভুল বকে যাচ্ছে। তাদের সামলাতেই হিমশিম শিক্ষিকা থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ দিকে মদ্যপ ছাত্রীদের দেখে ক্লাসেও তখন শুরু হয়েছে হই চই। সব মিলিয়ে দিশাহারা অবস্থা সরকারি স্কুলের।

অন্ধ্রপ্রদেশের একটি সরকারি স্কুলে এই ঘটনা ঘটেছে সোমবার। প্রধান শিক্ষক বাট্টু সুরেশ কুমার জানিয়েছেন, দুই ছাত্রীই নবম শ্রেণির। তাদের কাছ থেকে মদের বোতল আর সফট ড্রিঙ্কসের ক্যান পাওয়া গেছে। দু’জনেরই অভিভাবকদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। আপাতত তাদের স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গতকাল নবম শ্রেণির অঙ্কের ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষিকা। বোর্ডের দিকে ফিরে অঙ্ক কষতেই কষতেই তাঁর নাকে আসে অ্যালকোহলের গন্ধ। সেই সঙ্গে হালকা ফিসফাস শব্দ। পিছনে ফিরে ছাত্রীদের চুপ থাকার জন্য বকাবকিও করেন তিনি। ফের পিছনে ফিরলে একই রকম আওয়াজ। গন্ধটাও তীব্র হচ্ছিল ধীরে ধীরে। শেষে ক্লাস ঘুরে তিনি আবিষ্কার করেন পিছনের সারিতে বসে ঢুলছে দুই ছাত্রী। তাদের বেঞ্চের কাছেই গন্ধটা বেশ কড়া। খুঁজে পেতে ডেস্কের ভিতরে মেলে মদের বোতল আর সফট ড্রিঙ্কসের ক্যান। ছাত্রীরাই জানায় দু’টো মিশিয়ে দিব্যি চুমুক দিয়ে যাচ্ছিল তারা।

শিক্ষিকা জানিয়েছেন, ছাত্রীদের যখন ধরে বেঁধে প্রধান শিক্ষকের অফিসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তাদের চোখ লাল, মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়ার অবস্থা। প্রধান শিক্ষকের জেরার মুখে তারা জানায়, বাড়িতে বাবা, কাকাদের দেখেই মদ খাওয়া শিখে গেছে। লুকিয়ে রোজ মদের বোতলে চুমুক দিতে দিতেই নেশা ধরে গেছে সাঙ্ঘাতিক ভাবে। যদিও ছাত্রীদের বেশি বকাবকি না করে তাদের কাউন্সেলিং করা হবেই বলেই জানিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.