মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

ওঁরা নাকি ভোট দেবেন! দু’জনের বয়স ২৬৫, একজনের ১৪৪

দ্য ওয়াল ব্যুরো : উনিশের লোকসভা ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকেই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা তৈরির কাজ। আর এই ভোটার তালিকা দেখেই ভিরমি খাওয়ার জোগার লুধিয়ানার মানুষের। জেলার ভোটার তালিকা দেখাচ্ছে, সেখানে দুজন ভোটারের বয়স ২৬৫ বছর। একজন আরেকটু কম, ১৪৪ বছর। শুধু তাই নয়, এই জেলায় ১১৮ বছর বয়সী ২৭৩ জন ভোটার রয়েছেন। আর এই তথ্য জানতে পেরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে সেখানে।

অবশ্য শুধু লুধিয়ানা নয়, গোটা পাঞ্জাবের অবস্থাটাই প্রায় এক। ১০০ বছরের বেশি বয়সের ৮৬৩ জন ভোটার রয়েছেন লুধিয়ানাতে। খুব একটা পিছিয়ে নেই পাঞ্জাবের রাজধানী অমৃতসর ও হোশিয়ারপুর। অমৃতসরে শতাধিক আয়ুযুক্ত ভোটারের সংখ্যা ৫৫৮। হোশিয়ারপুরে ৪৪৯ জন ভোটার রয়েছেন, যাঁদের বয়স ১০০ পেরিয়েছে।

কিন্তু কীভাবে?

পুরোটাই হিসেবের গোলমালে।

পাঞ্জাবের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার এস কে রাজু জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা অনুযায়ী গোটা রাজ্যে ৫ হাজার ৯১৬ জন ভোটার রয়েছেন, যাঁদের বয়স ১০০’র বেশি। এটা পুরোটাই হিসেবের গোলমালের ফলে হয়েছে। কর্মীরা জন্মের তারিখ বসাতে গিয়ে ভুল করেছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে অনেক ভোটার মারা গিয়েছেন, কিন্তু তাঁদের নামের পাশে এখনও মৃত লেখা হয়নি। ফলে বহাল তবিয়তেই এখনও ভোটার রয়ে গিয়েছেন তাঁরা। আর তার ফলেই এই সমস্যা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য যে সঠিক তার প্রমাণ মিলেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করার মাধ্যমেই। সমীক্ষা করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, শুধুমাত্র পশ্চিম লুধিয়ানাতেই ৫৭ জন শতাধিক আয়ুযুক্ত ভোটারের মধ্যে ৩৫ জনই মৃত।

যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের না হয় মৃত ঘোষণা করতে ভুল হয়েছে। কিন্তু বেঁচে থাকতেই যাঁরা ১০০ বছর পার করে ফেলেছেন, তাঁদের কী অবস্থা। যেমন উত্তর লুধিয়ানা বিধানসভা এলাকার অক্ষিতা ধাওয়ান এবং গিল বিধানসভা এলাকার অশ্বনী কুমার। ভোটার তালিকা অনুযায়ী দুজনেরই বয়স ২৬৫ বছর। দক্ষিণ লুধিয়ানা বিধানসভা এলাকার সারদা দেবীর জন্মের তারিখ আবার ১৮৭৪ সাল। অর্থাৎ তালিকা অনুযায়ী তাঁর বয়স ১৪৪ বছর। কীভাবে এটা হলো, সেটা ভেবেই কুল কিনারা পাচ্ছেন না তাঁরা।

লুধিয়ানার ডেপুটি কমিশনার প্রদীপ আগরওয়াল জানিয়েছেন, “এই ভুলগুলো হয়েছে রেজিস্ট্রেশন অফিসে তথ্য লেখার সময়। প্রত্যেকটা তথ্য নতুন করে দেখে ভুল ঠিক করা হচ্ছে।” নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত এক অফিসার জানিয়েছেন, তথ্য বসানোর সময় কর্মীদের গাফিলতির ফলেই এটা হয়েছে। যেমন লুধিয়ানায় যে ২৭৩ জন ভোটারের বয়স ১১৮ বছর দেখাচ্ছে, তাঁরা প্রত্যেকেই নতুন ভোটার। অর্থাৎ তাঁদের বয়স ১৮। কিন্তু জন্মের তারিখ বসাতে গিয়ে ২০০০ সালের জায়গায় ভুল করে ১৯০০ সাল বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলেই এই সমস্যা হয়েছে।

আরও পড়ুন

‘বাবাকে শুভেচ্ছা জানান’, জন্মদিনে বিজ্ঞাপন ছেলেদের, ফোনের ঠ্যালায় বাবার অবস্থা কাহিল

 

Shares

Comments are closed.