সোমবার, মার্চ ২৫

‘ভারতীয় পাইলটের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার করুন,’ ভারত-পাক ঝড় উঠল টুইটারে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বালাকোটে জঙ্গি শিবির ধ্বংসের পর যুদ্ধ-যুদ্ধ রব দুই পরমাণু শক্তিধর দেশে। তুমুল উত্তাপের মধ্যে আচমকাই শান্তি ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় বায়ুসেনার মিগ-২১ বাইসন জেটের এক পাইলট তাদেরই হাতে বন্দি। পাক সংবাদমাধ্যম জিও টিভির প্রকাশ করা এক ভিডিও সামনে আসার পরই ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি হয়েছে। শান্তির বার্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তাই আওয়াজ উঠেছে পাকিস্তানের নানা মহল থেকে। পাক সেনার হাতে আটক ভারতীয় পাইলটের সঙ্গে যাতে কোনওরকম অসম্মানজনক ব্যবহার না করা হয় টুইটারে সেই বার্তা দিতে শুরু করেছেন পাক রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক থেকে সাধারণ মানুষ।

বুধবার সকালে পাক বায়ুসেনার চারটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নৌসেরা সেক্টর দিয়ে ভারতীয় আকাশসীমায় ঢোকা মাত্রই একটিকে গুলি করে নামায় ভারতীয় বায়ুসেনা। এর পরেই পাকিস্তানের তরফে দাবি করা হয়, ভারতের দু’টি মিগ-২১ বাইসন জেটকে গুলি করে নামিয়েছে পাক বায়ুসেনা। সেই সঙ্গে  ভারতীয় বায়ুসেনার দুই পাইলটকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন পাক সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর। দিনভর এই নিয়ে চাপানউতোর চলার পর বিকেলের দিকে সাংবাদিক বৈঠক করে ভারতীয় বায়ুসেনার এক পাইলটের নিখোঁজ হওয়ার খবর স্বীকার করে নেয় নয়াদিল্লি।

পাক সেনার হাতে আটক ভারতীয় পাইলটের সঙ্গে যাতে সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হয় সেই কথা জানিয়ে টুইটারে পোস্ট করে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ভাইজি ফতিমা ভুট্টো। তিনি লেখেন, ‘‘ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলটের সম্মান বজায় রাখুন, পাকিস্তান সেটাই চায়। আমি প্রার্থনা করছি যাতে তাঁর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং আমি গর্বিত সব রকম সঙ্কোচ ঝেরে ফেলে বাকিরাও এমন আওয়াজই তুলেছেন। আমরা যুদ্ধ চাই না, সব মানুষের জন্য শান্তি চাই।’’

শুধু ফতিমা নন, টুইটার শান্তির বার্তা দিয়ে একই কথা লেখেন পাক সাংবাদিক থেকে সাধারণ নাগরিক। সাংবাদিক মনসুর আলি খান, লেখেন, ‘‘সামরিক নীতি মেনে একজন কর্তব্যরত সেনা অফিসারের সঙ্গে যে রকম ব্যবহার করা উচিত, আশা রাখবো ভারতীয় পাইলটদের সঙ্গেও তেমনই মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার করা হবে। কারণ আমাদের দেশ সাহসিকতাকে সম্মান করে।’’

বস্তুত, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসাবেই দেখছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। যদিও পাক সরকারের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে সংঘাত বাড়ানোর কোনও উদ্দেশ্যই নেই তাদের। বরং ভারতের সঙ্গে শান্তি স্থাপনেই বেশি আগ্রহী তারা। তবে ভারতের প্রত্যাঘাতের জবাবে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতেই এই অসামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।

পাক প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “ভারতের কাছে যা হাতিয়ার রয়েছে বা পাকিস্তানের কাছে যা হাতিয়ার রয়েছে, তাতে উত্তেজনা বাড়লে পরিণতি কী দাঁড়াবে কেউ বলতে পারে না।” তিনি আরও বলেন,  “তা যেমন নরেন্দ্র মোদীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, তেমনই নিয়ন্ত্রণে থাকবে না ইমরান খানেরও। তাই পাকিস্তান এখনও শান্তিপূর্ণ আলোচনায় রাজি। সেই সঙ্গে পুলওয়ামা কাণ্ডের তদন্তে সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত। কারণ, পাকিস্তানও চায় না সন্ত্রাসবাদের জন্য আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করা হোক।”

Shares

Comments are closed.