বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৩
TheWall
TheWall

হলুদে নিরাময় ক্যানসার! তিরুঅনন্তপুরমের গবেষণা পেল মার্কিন পেটেন্ট

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসারের বিরুদ্ধে গবেষণায় বিরাট সাফল্য পেল তিরুঅনন্তপুরমের শ্রী চিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়ন্সেস। হলুদের একটি উপাদান ব্যবহার করে ক্যানসার নিরাময়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে এই সংস্থা। এই গবেষণাকে পেটেন্ট দিয়ে স্বীকৃতি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

শ্রী চিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউটের গবেষক দলের প্রধান লিসি কৃষ্ণাণের মতে, হলুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদানে ভর্তি। হলুদের একটি উপাদান ‘কারকুমিন’ সরাসরি ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলির উপর প্রভাব ফেলে। অন্য কোনও পদ্ধতিতে ক্যানসারের চিকিৎসা করতে গেলে সাধারণত ক্যানসার আক্রান্ত কোষ ছাড়াও অন্যান্য কোষগুলির উপরেও তার প্রভাব পড়ে। কিন্তু এক্ষেত্রে ক্যানসার আক্রান্ত কোষের আশাপাশের সুস্থ কোষগুলিতে তার কোনও প্রভাব পড়ে না।

কৃষ্ণাণ আরও জানিয়েছেন, হলুদের মধ্যে ক্যানসার নিরাময়ের অনেক উপাদান রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্ত্বপূর্ণ হল এই কারকুমিন। এই কারকুমিন শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে রক্ত জমাট বাঁধা আটকায়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের অনুদানে গঠিত এই সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হলুদের এই উপাদান এমনভাবে ব্যবহার করা যা সরাসরি ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারকুমিন টিস্যু ফ্লুইডের মাধ্যমেই শরীরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রী চিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা আশা কিশোর জানিয়েছেন, “একবার ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ দেওয়ার পরেও তা অন্য কোষে ছড়িয়ে ফের ক্যানসার ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। এই আশঙ্কাকেই শেষ করে দেয় কারকুমিন। একবার অস্ত্রোপচার হয়ে যাওয়ার পর ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলির আশেপাশের কোষগুলিকে সুরক্ষিত রাখে হলুদের এই উপাদান। সেখানে কোনও রকমের রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না এই উপাদান। ফলে নতুন করে ক্যানসার ফিরে আসার আশঙ্কাও থাকে না।”

আরও পড়ুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিসেপটিকও বটে, হলুদে লুকিয়ে রয়েছে হাজারও গুণ

ইতিমধ্যেই পশুর মধ্যে পরীক্ষা করে সাফল্য পাওয়া গিয়েছে এই পদ্ধতিতে। এবার এই পদ্ধতি অন্যান্য সংস্থাতেও পাঠাতে তৈরি তিরুঅনন্তপুরমের এই গবেষণা সংস্থা। আশা কিশোর জানিয়েছেন, “মার্কিন পেটেন্ট পাওয়ার পর আমাদের এই গবেষণার মূল্য আরও বেড়ে গিয়েছে। এবার দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থায় আমাদের গবেষণা পাঠাতে পারি। আশা করছি ক্যানসার গবেষণায় এক নতুন দিক খুলে যাবে।”

Share.

Comments are closed.