ইদ পালন হবে, নমাজও হবে, কিন্তু অশান্তি হবে না কাশ্মীরে, আশ্বাস কেন্দ্রের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ইদে যাতে জম্মু-কাশ্মীরে কোনও রকমের অশান্তি না হয়, সে দিকে নজর রাখছে কেন্দ্র। একদিকে যেমন উপত্যকা জুড়ে মোতায়েন রয়েছে প্রচুর সেনা, অন্যদিকে তেমনই রবিবার থেকে শ্রীনগরে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। কয়েকটি জায়গায় অবশ্য রবিবার থেকে কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। মানুষ যাতে ইদের কেনাকাটা করতে পারেন, সে দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে রবিবারও কাশ্মীরের বেশ কিছু জায়গায় ব্যাঙ্ক, এটিএম, বাজার প্রভৃতি খোলা ছিল। কাশ্মীরের মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে বাড়ি ঢুকে যেতে। শ্রীনগরের জেলাশাসক শাহিদ চৌধুরী টুইট করে জানিয়েছেন, “আমরা চাইছি সাধারণ মানুষ ইদ উদযাপন করুক। সেইজন্য বেশ কিছু সময়ের জন্য নিরাপত্তার কড়াকড়ি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আবার পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে বেরিয়ে না যায়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হচ্ছে। ইমামদের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। তাঁদের বলা হয়েছে মসজিদে নমাজের ব্যবস্থা করতে।”

কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়া পর থেকে ১৪৪ ধারা জারি ছিল উপত্যকায়। কিন্তু সোমবার ইদের আগে টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট-সহ যোগাযোগ মাধ্যমের উপর থেকে সাময়িক ভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল কেন্দ্র। খুলেছিল স্কুল-কলেজ। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের প্রধান দিলবাগ সিং জানিয়েছিলেন, “গত ক’দিনে বড় কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। এমনকী পরিস্থিতি স্বাভাবিক দক্ষিণ কাশ্মীরেও। সোমবার ইদের আগে রাজ্যের আরও কিছু জায়গায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।” জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের তরফেও টুইট করে জানানো হয়, “রাজ্য এখন হিংসা মুক্ত। অযথা গুজব বা উস্কানিমূলক কথাবার্তায় কান দেবেন না। ”

শনিবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক চলাকালীন রাহুল গান্ধী এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। বেশ কিছু জায়গা থেকে অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সব কিছু সাধারণ মানুষকে জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধও করেন রাহুল। কিন্তু রাহুলের এই বক্তব্যের পর সে কথা উড়িয়ে দেন দিলবাগ সিং।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছিলেন, একটি সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, ১০ হাজার মানুষ নাকি পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলিতেও।  এটা সম্পূর্ণই মনগড়া। শ্রীনগর ও বারামুলায় বিক্ষিপ্ত কয়েকটি বিক্ষোভ হয়েছে বটে কিন্তু কোথাও ২০ জনের বেশি তাতে অংশ নেয়নি।

কাশ্মীরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। গত মঙ্গলবারই কাশ্মীরে চলে যান তিনি। তারপর থেকে দেখা গিয়েছে কখনও তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে কখনও বিএসএফ বা সিআরপিএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কখনও আবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাঁদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

৩৭০ ধারা বিলোপের পরে মোদী সরকারের মূল চিন্তার বিষয় ইদ। কারণ ইদের সময় ১৪৪ ধারা না তুললে মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় কাশ্মীরের বাইরে কর্মসূত্রে থাকা মানুষজন অভিযোগ জানিয়েছিলেন, যে তাঁরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সিআরপিএফের এক অফিসার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের রাস্তায় অনেক বেশি অসামরিক গাড়ি দেখা গিয়েছে। শুক্রবার কোনও কোনও জায়গায় হয়তো কড়াকড়ি শিথিল করা হবে। তার আগে সেনাবাহিনী খতিয়ে দেখবে কোথায় কোথায় অশান্তির সম্ভাবনা কম। ভারতীয় সেনা অশান্তিপ্রবণ এলাকাগুলির একটি তালিকা তৈরি করেছে। তার মধ্যে আছে সোপিয়ান, পুলওয়ামা, অনন্তনাগ ও সোপোর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More