বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

কয়লা পোড়া বিষাক্ত ছাইতে ঢাকল মধ্যপ্রদেশের গ্রাম, আক্রান্ত শিশুরা, ‘চক্রান্ত’ সাফাই গাইল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিষাক্ত কয়লা পোড়া ছাইতে ঢেকেছে আকাশ। চাষের খেত, বাড়িঘর ঢাকা পড়েছে পোড়া কালো ছাইতে। মধ্যপ্রদেশের এসার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা পোড়া বর্জ্য, বিষাক্ত ছাই প্রায় ঢেকে ফেলেছে সিঙ্গরাউলি জেলার প্রায় ৪ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা। ছাই চাপা পড়েছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন গ্রাম। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। অবস্থা গুরুতর শিশুদের।

সিঙ্গরাউলি জেলা শাসক কেভিএস চৌধুরী জানিয়েছেন, ওই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য জমা করার জন্য একটি কৃত্রিম পুকুর খনন করা হয়েছিল। সেখানেই কয়লা পোড়া ছাই জমা হত। বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেই পুকুর ছাপিয়ে বিষাক্ত ছাই ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। পরতের পরত ছাই জমা হতে হতে ঢেকে দেয় বাড়ি ঘর। মধ্যরাতে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি শিশুকে। বাড়িটি চাপা পড়ে গিয়েছিল ছাইতে। নাকে মুখে ছাই ঢুকে শিশুদের অবস্থা গুরুতর। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সিঙ্গরাউলি মূলত কয়লা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রসিদ্ধ। ২১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতার ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে সেখানে। তার মধ্যে এসার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ভূরি ভূরি। গ্রামবাসীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা সত্ত্বেও এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে দূষণ রোধের কোনও আধুনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চিমনি থেকে গল গল করে বার হওয়া কালো ছাইয়ের কারণে প্রায়শই শ্বাসকষ্ট হয় এখানকার এলাকার লোকজনের। তার উপর পোড়া ছাই খোলা আকাশের নীচেই জমা করে রাখা হয়। এই ছাইপুকুর থেকে গাড়িতে ছাই তোলার সময় সেগুলো উড়ে বাড়িঘরের মধ্যে ঢুকে যায়। দূষিত হয় গ্রামের অন্যান্য পুকুর ও জলাশয়গুলিও।

জেলাশাসকের কথায়, ‘‘গতকাল রাত থেকে ওই ছাইপুকুর ছাপিয়ে বিষাক্ত পোড়া ছাই ছড়িয়ে পড়তে থাকে এলাকায়। ঢেকে দেয় চাষের জমি। প্রায় ৫০০ চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’’

এসার তাপবিদ্য়ুৎ কেন্দ্র

এই ঘটনা ইচ্ছাকৃত ভাবে ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন সমাজকর্মী জগৎ নারায়ণ বিশ্বকর্মা। সিঙ্গরাউলির দূষণ নিয়ে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালে অভিযোগ জমা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, এসার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষাক্ত ছাইতে ক্ষতি হয়েছে দু’টি গ্রামের। অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও ছাইয়ের স্তর জমা হয়েছে ৬ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত।

অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে এসার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, গ্রামবাসীদের ভুলের জন্যই এমনটা ঘটেছে। তাঁরাই দায়ী গোটা ঘটনার জন্য। পুলিশের দাবি, গতকাল রাতে ছাইপুকুরের পাশ থেকে ৪-৫ জন লোককে পালাতে দেখা গেছে। তার পরেই ছাই লিক করতে শুরু করে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এর পিছনে চক্রান্ত রয়েছে।

Comments are closed.