হাথরসের তদন্ত কে করবে সিবিআই বা সিট! জনস্বার্থ মামলার শুনানি আজ সুপ্রিম কোর্টে

হাথরসের তদন্তে যেন কোনও গলদ না থাকে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন সমাজকর্মী সত্যমা দুবে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও পিটিশন দাখিল করেছিলেন তিনি।

২২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাথরস গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্তভার কার হাতে থাকবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই নাকি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট), সেই নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হতে পারে আজ সুপ্রিম কোর্টে। হাথরসের নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের জন্য জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালতে। আজ মঙ্গলবার সেই মামলারই শুনানি হবে।

হাথরসের তদন্তে যেন কোনও গলদ না থাকে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন সমাজকর্মী সত্যমা দুবে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও পিটিশন দাখিল করেছিলেন তিনি। আজ শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি এএস বোপান্না এবং বিচারপতি রামাসুব্রহ্মণ্যমের নেতৃত্বাধান বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে।

হাথরস কাণ্ডের তদন্তভার রয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল তথা সিটের হাতে। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে এসপি-সহ পাঁচ পুলিশ কর্মীকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হাথরস গ্রামে এক ভয়ঙ্কর তাণ্ডবলীলা চালায় পুলিশ। তরুণীর মৃতদেহ জোরজবরদস্তি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি গমের ক্ষেতের মধ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতিতার পরিবার বাধা দিতে গেলে তাঁদের চূড়ান্ত হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। পুলিশি হেনস্থার ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। দেখা যায়, নির্যাতিতার মা অ্যাম্বুলেন্সের উপর পড়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। পুলিশের ভ্যান ঘিরে দাঁড়িয়ে তরুণীর বাবা, দাদা ও গ্রামবাসীরা। সকলকে টেনে হিঁচড়ে ঘরে ঢুকিয়ে তালাবন্ধ করতেও দেখা যায় পুলিশকে। হাথরসের ঘটনার বীভৎসতা ও পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডের পরে ক্ষোভের আগুন আরও বেড়ে যায়। চাপের মুখে পড়ে সিটকে তদন্তভার দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, ন্যাক্রো অ্যানালাইসিস বা লাই-ডিটেকটর টেস্ট হতে পারে অপরাধীদের। নির্যাতিতার পরিবারের লোকজনের বয়ানও নেওয়া হবে। তদন্তে কতটা গাফিলতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রবল চাপের মুখে শনিবার রাতেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে হাথরসের তদন্তভার তুলে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সিবিআই আনুষ্ঠানিক ভাবে তার তদন্তভার হাতে নেওয়ার আগেই, রবিবার রাতে চাঁদপা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তবে যোগী সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জমা হয়েছে নানা মহলে। সিবিআই তদন্ত করলে তার নিরপেক্ষতা কতটা বজায় থাকবে সে নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্যাতিতার পরিবারের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে সিটকে দিয়েই তদন্ত করানো হোক। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোয় অনাস্থা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More