আত্মহত্যার চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ! কেন্দ্রের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

৩৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ আত্মহত্যার চেষ্টা কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ? প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই বিষয়ে দুটি পরস্পর বিরোধী আইনের কথা উল্লেখ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। ইংরেজ আমল থেকে চলে আসা আইপিসি ধারায় আত্মহত্যার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার ২০১৭ সালে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় আইনে বলা হয়েছে মানসিক কারণেই এই কাজ করতে যায় কেউ। তাই একে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা চলে কিনা সেই বিষয়ে কেন্দ্রকে জবাব দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট।

শুক্রবার কেন্দ্রকে এই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জানানো হয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় আইন ও ইংরেজ আমলের আইপিসি ধারার মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা রয়েছে। একটা আইনে যখন বলছে আত্মহত্যার চেষ্টা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, অন্য আইনে তখন বলা হচ্ছে প্রবল মানসিক চাপ থেকেই এই কাজের উৎপত্তি। কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালকে নোটিস পাঠিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

একটি এনজিও এই সংক্রান্ত আবেদন করেছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই আবেদনে কেন্দ্র ও সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছে আবেদন করা হয় যাতে পশুর খাঁচায় ঢুকে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা কমানোর জন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি এ এস বোপান্না ও বিচারপতি ভি রামসুব্রহ্মন্যনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেলকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই নোটিসে বলা হয়েছে, মানসিক সাস্থ্য সম্পর্কীয় আইন, ২০১৭ এর ১১৫ ধারায় যে কথা বলা হয়েছে তা আইপিসি ৩০৯ ধারার বিরোধী। এই বিষয়েই জবাব চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রের কাছে।” সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সেই নোটিস গ্রহণ করেছেন।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আইপিসির ৩০৯ নম্বর ধারায় আত্মহত্যার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় আইনের ১১৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রবল মানসিক চাপের ফলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে। তাই এটি শাস্তিযোগ্য নয়। তাই আইপিসির ৩০৯ নম্বর ধারার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশের শীর্ষ আদলত। এই বিষয়ে প্রাক্তন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এ এন এস নাদকার্নিকেও নিযুক্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় আইনের ১১৫ নম্বর ধারায় আরও বলা হয়েছে, কোনও মানুষ যদি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর চিকিৎসা, রিহ্যাবিলিটেশন, তিনি যেন ভবিষ্যতে এরকম সিদ্ধান্ত আর না নেন সেই বিষয়ে কাউন্সিলিংয়ের সব দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে। তবেই আত্মহত্যার ঘটনা কমবে।

শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সরকার এমন একটা আইন নিয়ে এসেছে যা আইপিসির আইনের বিরোধী। এটা কীভাবে সম্ভব। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, যখন কোনও ব্যক্তি আত্মহত্যা করতে যান, তখন তার পিছনে কোনও মানসিক চাপ কাজ করে। সেটাই বলা হয়েছে নতুন আইনে।

তার জবাবে সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়, সব সময় মানসিক চাপ থেকেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে না। যেমন ভিয়েতনামে একদল সাধু প্রতিবাদ করতে গিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। সেটা মানসিক চাপ থেকে নয়। তাই এই আইন নিয়ে জবাব দিতে হবে কেন্দ্রকে। তারপরেই এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে দেশের শীর্ষ আদালত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More