সোমবার, এপ্রিল ২২

ত্রিপুরায় দাঁড়িয়ে ‘উন্নয়ন’, হাউমাউ কান্না তৃণমূল প্রার্থীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  এক, গোটা এলাকা জুড়ে তাণ্ডব করছে বাইকবাহিনী।

দুই, কোনও বিরোধী দলের এজেন্টকে ওরা বুথের ভিতর ঢুকতে দিচ্ছে না।

তিন, হাতে কালি লাগিয়ে ভোটারদের বলছে, যাও তোমাদের ভোট হয়ে গিয়েছে।

কী ভাবলেন বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে কোনও পথনাটিকার চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে? একেবারেই না। উপরের অভিযোগগুলো করছেন তৃণমূল প্রার্থী। বিজেপি-র বিরুদ্ধে।

ভাবা যায়!

ধরা যাক, বীরভূমে ভোট হচ্ছে। তৃণমূলের উন্নয়নের ঠেলায় বিজেপি প্রার্থী ভীষণ উত্তেজিত। রাস্তায় দাঁড়িয়ে  চিৎকার করছেন দুধকুমার মণ্ডল। আর কেষ্ট মণ্ডলের দিকে আঙুল তুলে বলছেন, ভোট দিতে দিচ্ছে না। মারছে, ধরছে, যা ইচ্ছে তাই করছে।

গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে এই ছবি দেখতে বাংলার মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। এখন যদি দুম করে একটা উল্টো ছবি সামনে আসে একটু তো অসুবিধে হবেই! তৃণমূল প্রার্থী কাঁদছেন। আর বিজেপি নেতারা দলীয় দফতরে ঠাণ্ডা শরবত খেতে খেতে বলছেন, ‘উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে।’

ছবিতে সবুজ পাঞ্জাবি এবং উত্তরীয় গলায় ত্রিপুরা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী মামুন খান

ত্রিপুরা পশ্চিম কেন্দ্রের নির্বাচনে বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করলেন তৃণমূল প্রার্থী মামুন খান। তরুণ এই প্রার্থীর সঙ্গে দ্য ওয়াল-এর তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, “আমাকে মেরেছে। আমার স্ত্রীকে মেরেছে। আমার মা এজেন্ট হয়েছিলেন, তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে বুথ থেকে।” কিন্তু কমিশন? ত্রিপুরার তৃণমূল প্রার্থীর জবাব, “কমিশন কিচ্ছু করছে না। পুলিশ ময়দানেই নেই। বিজেপি-র গুণ্ডাবাহিনী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা পশ্চিম ত্রিপুরা কেন্দ্র।

যে অভিযোগ বাংলায় বিজেপি সহ বিরোধীরা তোলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। একই অভিযোগ তুলল তৃণমূল। মামুন খানকে প্রশ্ন করা হয়, বিজেপি তো অভিযোগ করে, বাংলায় আপনার দল তাদের উপর এই রকম অত্যাচার করছে। তাই কি প্রতিশোধ? প্রশ্ন শুনেই কান্না থেমে যায় মামুনের। খেঁকিয়ে বলেন, “ওরা মিথ্যেবাদী। ওরা দেশদ্রোহী। ওরা দেশটাকে বেচে দেবে।” এক নিঃশ্বাসে বলে গেলেন মামুন।

গোটা ঘটনা শুনে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, অনুব্রত মন্ডলের উন্নয়নকে মডেল করে ফেলেছে বিজেপি। আর সেটা প্রয়োগ করছেন তাঁর দলের উপরেই। এ ব্যাপারে কেষ্টবাবুর প্রতিক্রিয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিক্রিয়া পেলে এই এই প্রতিবেদনে আপডেট করে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিকমহলের মতে, বাংলাতেও যেমন পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে পারেননি, ত্রিপুরাতেও তেমন সেখানকার শাসক দলের দাপটে ৯৬ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। বাংলাকে মডেল করে ত্রিপুরা গোটা ব্যাপারটাকে আরও গুছিয়ে করছে।

Shares

Comments are closed.