দুই ছানা সহ বাঘিনীর দেহ উদ্ধার, আবারও সেই মহারাষ্ট্রেই

১১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই শাবক সমেত উদ্ধার হয়েছে বাঘিনীর দেহ। আবারও সেই মহারাষ্ট্রেই। এ বার চন্দ্রপুর জেলায়।

বনদফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে উদ্ধার হয়েছে এক বাঘিনী এবং তার দুই সন্তানের দেহ। চন্দ্রপুর জেলার মেতেপুর গ্রামে রয়েছে চিমুর ফরেস্ট রেঞ্জ। এই ফরেস্ট রেঞ্জের কাছেই উদ্ধার হয়েছে তিনটি বাঘের নিথর দেহ। কী ভাবে এই বাঘেদের মৃত্যু হয়েছে সে ব্যাপারে অবশ্য এখনও কিছু জানা যায়নি। চিমুর ফরেস্ট রেঞ্জের চিফ কনজারভেটর এস ভি রামারাও জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ফরেস্ট গার্ডদের অনুমান, এ কাজ চোরাশিকারীদের হতে পারে। তবে গ্রামবাসীরাও বাঘিনী এবং তার ছানাদের মেরে ফেলতে পারে, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বনদফতরের আধিকারিকরা।

বনকর্মীরা জানিয়েছেন, কী ভাবে তিনটি বাঘের মৃত্যু হলো তা জানতে জোরকদমে শুরু হয়েছে তদন্ত। এই চন্দ্রপুর জেলাতেই রয়েছে Tadoba Andhari Tiger Reserve। মৃত বাঘিনী এবং তার দুই সন্তান এই টাইগার রিজার্ভের সদস্য কি না সে ব্যাপারেও খোঁজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, বনকর্মীরা। 

এর আগেও বাঘেদের নির্মম পরিণতি দেখছে মহারাষ্ট্র। গত বছর এই রাজ্যেই নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল দুই সন্তানের মা বাঘিনী অবনীকে। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, ১৪ জন মানুষকে খেয়ে ত্রাসে পরিণত হয়েছিল অবনী। তাই আতঙ্কিত গ্রামবাসী অবনীকে মেরে ফেলার দাবি জানায় বন দফতরের কাছে। এরপর  মহারাষ্ট্রের পনধড়কওয়ারা জঙ্গলে “মানুষ খেকো” বাঘিনী অবনীকে গুলি করে মারে বনদফতরের কর্মীরা।

কিন্তু মৃত্যুর পর উঠে আসে নানা তথ্য। জানা যায়, ১৪ জন মানুষ খাওয়া তো দূরের কথা, মারা যাওয়ার আগে দিন সাতেক একেবারেই অভুক্ত ছিল অবনী। অবনীকে বাঁচাতে দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমছিলেন পরিবেশপ্রেমীরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বনদফতর জানিয়েছিল, মানুষ খেকো বাঘিনী কতটা বিপজ্জনক তা আন্দাজ করেই নাকি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মানুষের স্বার্থে, নিরীহ গ্রামবাসীদের বাঁচাতেই নাকি চিরঘুমের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল অবনীকে।

চোরাশিকারিদের হাতে নির্বিচারে নিধন হোক বা নিছক ভয় ও আতঙ্কের কারণে ২০০৮ সাল থেকে গোটা দেশ জুড়ে বাঘের হত্যালীলা চলেছে। পরিসংখ্যান বলছে সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৪২৯-এ।  পরিবেশমন্ত্রকের অধীনে ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (WCCB)-র তথ্য তেমনটাই জানাচ্ছে। WCCB-এর রিপোর্ট বলছে, মধ্যপ্রদেশে এ যাবৎ মোট ৭১টি বাঘের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে গ্রামবাসীদের হাতে অথবা চোরাশিকারিদের উৎপাতে। সবচেয়ে বেশি বাঘ হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২০১১ সালে। দেশের নানা প্রান্তে সাকুল্যে ৮০টি বাঘের মৃত্যুর খবর মিলেছে, ২০১৫ সালে সেই সংখ্যাটা খানিক কমে দাঁড়িয়েছে ১১ তে। ২০১৬ সালে ৪৮টি, ২০১৭-তে ২৫ ও ২০১৮ সালে ২২টি বাঘের হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে।

বাঘের মৃত্যুতে এগিয়ে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ। ২০০৮ সাল থেকে মোট ৭১টি বাঘের শিকার হয়েছে রাজ্যে, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে ৪৬টি বাঘকে নিশানা বানিয়েছে চোরাশিকারিরা, অসম ও ছত্তীসগড়ে ৪২টি এবং উত্তরাখণ্ডে ৩৫টি বাঘ খুন করা হয়েছে গত কয়েক বছরে। পশ্চিমবঙ্গও সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও উত্তরবঙ্গে চিতা বাঘ হত্যার নজিরও খুব কম কিছু নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More