রবিবার, নভেম্বর ১৭

শক্তিশালী ‘বালাকোট বোমা’ কিনতে ইজরায়েলের সঙ্গে ৩০০ কোটির চুক্তি করছে ভারত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৬ ফেব্রুয়ারির ভোর রাত। পাকিস্তানের আকাশ সীমা পেরিয়ে বালাকোটের জঙ্গি শিবিরগুলিতে আক্রমণ শানায় ভারতীয় বায়ুসেনার মিরাজ-২০০০ যুদ্ধ বিমান। এক একটি জঙ্গি শিবির লক্ষ্য করে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানে ইজরায়েলি স্পাইস ২০০০ বোমা। মাত্র দেড় মিনিটই বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক সফল হয়েছে বলে দাবি করে কেন্দ্র। বালাকোট অভিযানের সাফল্যকে তুলে ধরে এ বার ইজরায়েলের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করতে চলেছে ভারত। ৩০০ কোটি টাকার চুক্তিতে ইজরায়েলের থেকে একশোরও বেশি স্পাইস-২০০০ বোমা কেনা হবে বলে বায়ুসেনা সূত্রে খবর।

ইজরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে চলেছে ভারত। বায়ুসেনার সেকেন্ড-ইন কম্যান্ড জানিয়েছেন, এই স্পাইস বোমা যে কোনও উচ্চতা থেকেই নির্ভুল নিশানায় লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে। ইজরায়েলের তৈরি এই বিশেষ বোমা আপদকালীন অবস্থায় দেশের সুরক্ষার কাজে আসবে।

বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার অভিযানের পরে জঙ্গি মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। পাকিস্তানও দাবি করেছিল কিছু গাছ এবং জঙ্গল ছাড়া কোনও ক্ষতি হয়নি পাকিস্তানের। সেই বিতর্কের মধ্যেই সরকারের হাতে সরাসরি প্রমাণ তুলে দিয়েছিল বায়ু সেনা। উপগ্রহ চিত্র দিয়ে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ওই দিন ৮০ শতাংশ বোমাই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়,  বায়ু সেনার মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানে অভিযান চালানো হয়। ওই যুদ্ধবিমানগুলিই ইজরায়েলি স্পাইস ২০০০ বোমা ফেলে আসে। এই বোমাগুলি বাড়ির ছাদ দিয়ে ঢুকে ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটায়। ফলে ক্ষতি হয়েছে ভিতরে ভিতরে।

বায়ুসেনার এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া দাবি করেন, প্রায় ১০০০ কেজির মতো স্পাইস-২০০০ বোমা ফেলা হয় বালাকোটের জঙ্গি শিবিরগুলিতে। অপারেশন চালায় ১২টি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান। এক একটি স্পাইস বোমাতে প্রায় ৮০ কেজির মতো বিস্ফোরক ঠাঁসা থাকে।বোমার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সামনের অংশ লক্ষ্য স্থির করে। পিছনে থাকে বিস্ফোরক। শক্তিশালী এই স্পাইস বোমার আঘাতেই  মৃত্যু হয় অন্তত ৩০০ জঙ্গির।

Comments are closed.