অসমের চা বাগান যেন মৃত্যুপুরী, বিষ মদে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০২, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্তত ৩০০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যু মিছিল যেন। একদিকে পূর্ব অসমের গোলাঘাট, অন্যদিকে জোরহাট, দুই জেলাতেই এখন শুধু স্বজন হারানোর আর্তনাদ আর হাহাকার। মদের বিষক্রিয়ার জেরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১০২, যার মধ্যে ৩২ জন মহিলা।

    পুলিশের অনুমান, চা বাগানে বিক্রি হওয়া সুলাই নামে একধরনের বেআইনি মদের বিষক্রিয়ার জেরেই এই দুর্ঘটনা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই প্রশাসন সূত্রে খবর। দুই জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল মিলিয়ে চিকিৎসাধীন অন্তত ৩০০ জন। যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    শনিবার জোরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। জোরহাট মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন ১২২ জন। যাঁদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক। মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা ও অসুস্থদের জন্য ৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তিনি।  গোলাঘাটের জয়েন্ট ডিরেক্টর (হেলথ) রাতুল বরদলই বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দিন চা-বাগানের মধ্যেই একটি ঝুপড়ি থেকে মদ বিক্রি করছিলেন ৬৫ বছরের ধ্রুপদী ওঁরাও ও তাঁর ছেলে বছর ত্রিশের সঞ্জু ওঁরাও। তাঁর কাছ থেকেই চা বাগানের শ্রমিকরা মদ কিনেছিল বলে জানা যায়। পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট পার্থপ্রতিম শইকিয়া বলেন, যতদূর মনে হচ্ছে, টি এস্টেটের বাইরে মদ তৈরি হয়েছিল। সঞ্জু জ্যারিকেনে ভরে সেই মদ নিয়ে আসে।

    সুলাই জাতীয় মদ গুড় আর ইথাইল অ্যালকোহল দিয়ে তৈরি হয়। চা বাগানের বাইরে বেআইনি ভাবে বিক্রি হয় সেই মদ। পুলিশের সন্দেহ, মদ তৈরির সময় ইথাইল অ্যালকোহলের পরিবর্তে মিথাইল অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়েছিল। তাতেই মদ বিষাক্ত হয়ে ওঠে। সেই মদ খাওয়ার পরই অসুস্থ হতে শুরু করেন সবাই। মা ও ছেলে দু’জনেই বিষক্রিয়ায় মারা গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    জোরহাট থেকে ৪০ কিলোমিটার পূর্বে গোলাঘাট। সেখানকার ডেপুটি কমিশনার ধীরেন হাজারিকা জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধেয় গোলাঘাট চা বাগান ও লাগোয়া জুগিবারি ও গোরোঙ্গা গ্রামে বিষ মদের বলি ৫৯ জন। যার মধ্যে গোলাঘাট সিভিল হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের এবং জোরহাট মেডিক্যাল কলেজে ২৭ জনের।

    কী ভাবে এই বিষমদ প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছিল, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জন্য এক কমিশনারকে নিযুক্ত করা হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, “মৃত্যুর সংখ্যা ও ভর্তি সংখ্যা মিনিটে মিনিটে বাড়ছে। মেডিকেল শিক্ষার প্রধান অনুপ বার্মানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। এ ছাড়া ডিব্রুগড়, সনিৎপুর, তেজপুর থেকে ডাক্তার আনা হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দেওয়ার জন্য।”

    ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More