রবিবার, অক্টোবর ২০

ঝলসানো গাছপালা, মাটিতে ছাইয়ের স্তূপ, এএন-৩২ বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি দেখাল বায়ুসেনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পরে মিলল শুধু ধ্বংসস্তূপ। ঘন জঙ্গলের মধ্যে বেশ কিছুটা এলাকা জুড়ে ঝলসানো, পুড়ে যাওয়া গাছপালা আর তারই মাঝে মাটিতে পড়ে বিমানের ভাঙাচোরা কিছু টুকরো। চারদিকে শুধু ছাই। বায়ুসেনার পণ্যবাহী এএন-৩২ বিমানের অবশিষ্টাংশের এই ছবিই সামনে আনল বায়ুসেনা।

অসমের জোড়হাট থেকে রওনা দেওয়ার পরই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল এএন-৩২। ১৩ জন বায়ুসেনা সমেত বিমানটি কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছিল সিয়াং-এর পার্বত্য মেচুকার ঘন জঙ্গলে। দীর্ঘ আটদিনের খোঁজের পরে সিয়াং জেলারই পেয়াম সার্কেলের মধ্যে এই বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় বায়ুসেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। ১২ হাজার ফুট উপর থেকে তোলা এএন-৩২ বিমানের ধ্বংসাবশেষের এই ছবিই এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।

বায়ুসেনা সূত্রে খবর, সিয়াং-এর এই এলাকা কার্যত গহীন অরণ্য। তার উপর অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সেখানে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনা স্থলের কাছাকাছি একটি এলাকা চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে, বুধবার সকালে সেখানেই নামবে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার। যাত্রীদের কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাশিয়ায় তৈরি এএন–৩২ বিমানটির সঙ্গে গত সোমবার পশ্চিম সিয়াং জেলার পার্বত্য মেচুকা অঞ্চলে দুপুর একটার সময়ে শেষবার যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু তারপরই গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির রেডিও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সি–১৩০ জে, দু’টি এমআই–১৭ ও দু’টি এএলএইচ হেলিকপ্টার, সুখোই উড়িয়ে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছিল বায়ুসেনা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল নৌসেনা, ইন্দো–তিব্বত সীমান্ত পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ।  ঘন অরণ্য এবং দুর্গম গিরিখাত এলাকায় তল্লাশির জন্য কার্টোস্যাট ও রিস্যাট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সন্ধানকাজে সাহায্য করছিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।

প্রযুক্তিগত ত্রুটি যে এই এএন-৩২ বিমানের হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ সেটা স্বীকার করেছে বায়ুসেনা। চলতি বছরে বায়ুসেনার অন্তত ন’টি এয়ারক্রাফ্ট এমন দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে জাগুয়ার, দু’টো মিগ-২৭ জেট, দু’টো মিগ-২১ জেট, মিগ-১৭, মিরাজ-২০০০, সূর্যকিরণ হক এবং এএন-৩২।

Comments are closed.