করোনা ধরা পড়লে পঞ্চম দিন থেকে বেশি সতর্কতা জরুরি, কারণ বললেন বিশেষজ্ঞরা

করোনা রিপোর্ট পজিটিভ, কী করতে হবে?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এর পরে কী করতে হবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ উপসর্গেরও অনেক রকম ধরন। প্রি-সিম্পটোম্যাটিক বা মৃদু উপসর্গের রোগী রয়েছে, মাঝারি উপসর্গ বা মডারেট সিম্পটম্প ধরা পড়েছে এমন রোগীর সংখ্যা এখন বেশি। তাছাড়াও রয়েছে অ্যাসিম্পটোম্যাটিক বা উপসর্গহীন রোগী এবং ভাইরাল লোড বেশি এমন সঙ্কটাপন্ন রোগী। ডাক্তাররা বলছেন, ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লে কী ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে সেটা দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

সেটা কীভাবে? সংক্রমণ যদি মৃদু হয় তাহলে বাড়িতেই আইসোলেশনে থাকা ভাল। সেক্ষেত্রে রোগীর পরিবারের লোকজনকেও কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। মাঝারি উপসর্গের রোগীদেরও বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা, তবে নিয়ম মেনে। অনেককেই প্রয়োজনমতো পালস-অক্সিমিটার দেওয়া হচ্ছে। কোনও কারণে শ্বাসের সমস্যা দেখা দিলে এই অক্সিমিটারে ধরা পড়বে। অধিক সঙ্কটাপন্ন রোগী যাদের নিউমোনিয়া বা তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করাই জরুরি। কারণ শারীরিক অবস্থা বিচার করে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর বা অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

করোনা রিপোর্ট পজিটিভ, কী করতে হবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ রয়েছে অথচ উপসর্গ নেই বা মৃদু উপসর্গ রয়েছে, তাহলে হোম আইসোলেশনে থাকাই ভাল। তবে নিকটবর্তী কোভিড কেয়ার সেন্টার বা অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রাখা ভাল। কারণ অনেক সময়েই দেখা যায় সংক্রমণ ধরা পড়ার পরে কোনও লক্ষণ না থাকলেও কিছুদিন পর থেকে নানা রোগের নানা উপসর্গ ফুটে উঠছে। মৃদু সংক্রমণ থাকলেও বাড়াবাড়ি হতে পারে। তাই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলাই জরুরি।

মৃদু সংক্রমণ যেমন হাঁচি, শুকনো কাশি, ঝিমুনিভাবে, অনেকের পেটের রোগও দেখা দেয়। এই ধরনের রোগীর উপসর্গকে ‘ভেরি মাইল্ড বা প্রি-সিম্পটোম্যাটিক’ বলা হচ্ছে। তবে এই রোগীদেরও নজরদারিতে থাকা প্রয়োজন। হোম আইসোলেশনে কেয়ারগিভার থাকলে ভাল, যিনি কোভিড কেয়ার সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সময়ান্তরে রিপোর্ট দেবেন।

মাঝারি উপসর্গের রোগীদের আরও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন হালকা শ্বাসের সমস্যা, জ্বর, সারা গায়ে হাত-পায়ে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা, বমিভাব এবং কখনও পেট খারাপ, পেটে যন্ত্রণা। অনেকের ক্ষেত্রেই শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, নাকের গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা ও মুখের স্বাদ চলে যায়। ভুল বকা, ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায় অনেকের মধ্যে।

 

পঞ্চম দিন থেকে সতর্কতা বেশি দরকার কেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় পঞ্চম দিনের পর থেকে নানা রকম শারীরিক সমস্যা বা সংক্রমণের বাহ্যিক কিছু লক্ষণ ফুটে ওঠে। বমিভাব, মাথাব্যথা, পেটে যন্ত্রণা বাড়ে অনেকের। শ্বাসের সমস্যা বেশি হয়। বুকে ব্যথা, পেশিতে যন্ত্রণা, মুখ ও ঠোঁটে নীলচে ছোপ পড়তেও দেখা যায়। বয়স্ক ব্যক্তি যাদের অন্যান্য ক্রনিক রোগ রয়েছে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার পাঁচ দিন পর থেকে আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত। কোনওরকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিলেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বুকে ব্যথা হলে চেস্ট-এক্স রে করানো দরকার। কারণ অনেকেরই হার্ট অ্যাটাক হতে দেখা গেছে। এই সময় শরীরে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হতে পারে। তার জন্য চিকিৎসকের মতামত নেওয়া জরুরি। হাসপাতালে ভর্তি হলে ডাক্তাররা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মেপে নেন, রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে কিনা সেটাও টেস্ট করা হয়। বাড়াবাড়ি হলে রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতেই সতর্ক হলে সংক্রমণ বেশি ছড়াতে পারবে না। চিকিৎসায় সেরে ওঠা সম্ভব।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More