পাক-চিন গোপন আঁতাত! উপত্যকার জঙ্গিদের হাতে চিনা গ্রেনেড পাঠাচ্ছে পাকিস্তান

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো:  চিনা-পাকিস্তান গোপন আঁতাতের আভাস বালাকোট হামলার পরেই অনেক স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারকে সুসজ্জিত করতে বেশ উঠে পড়েই লেগেছে চিন। এ বার খবর মিলল, চিনে তৈরি বিশেষ গ্রেনেড আমদানি হচ্ছে পাক সেনাদের হাতে। সেই গ্রেনেড পাকিস্তান থেকে সোজা ঢুকে পড়ছে উপত্যকায় ঘাঁটি গেড়ে থাকা পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির কাছে।

    ইনটেলিজেন্স এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সূত্রে খবর, গত বছর থেকে অন্তত ৭০টি চিনা গ্রেনেড বাজেয়াপ্ত করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও সিআরপিএফ। নিয়ন্ত্রণরেখার ও পার থেকে এই গ্রেনেড পাচার হয় জঙ্গিদের কাছে। পুলওয়ামা কাণ্ডের পর উপত্যকার নানা জায়গায় জঙ্গি দমন অভিযানে নেমেও এই ধরনের প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার করে ভারতীয় সেনা যেগুলি বানানো হয়েছিল চিনে। তার মধ্যে চিনা গ্রেনেড যেমন ছিল, তেমনি ছিল অত্যাধুনিক পিস্তল, সেনার জন্য বানানো বিশেষ বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ভেদ করতে পারে এমন শেল (API) ।

    সূত্র বলছে, এই শেল বা এপিআইগুলি শক্ত ও নরম দু’ধরনের স্টিল দিয়ে তৈরিই। এগুলি বানান হয়েছে এমন কায়দায়, যে কোনও বুলেটপ্রুফ স্পেশাল জ্যাকেটে ছেদ করতে পারে অনায়াসেই। ভারতীয় বাহিনীকে কাবু করতে চিন এমন অস্ত্র পাকিস্তানকে সরবরাহ করছে বলেই ইনটেলিজেন্স সূত্রে দাবি।

    বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানিতে পাকিস্তান বরাবরই অনেক পিছিয়ে। এর আগে আমেরিকার থেকে অস্ত্র সাহায্য পেলেও পুলওয়ামা ঘটনার পর সেই রাস্তা অনেকটাই বন্ধ। সন্ত্রাস দমনে আমেরিকার দেওয়া আর্থিক ও সামরিক সাহায্য আসলে ব্যবহার করা হচ্ছে সন্ত্রাসের মদত দিতে, এই অভিযোগে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। উল্টো দিকে আমেরিকার সঙ্গে ক্রমশই ভাল হচ্ছে ভারতের সম্পর্ক। বেজিং কোনও ভাবেই চায় না, উপমহাদেশের বুকে প্রভাব বাড়াক আমেরিকা।

    পাক-আমেরিকা সম্পর্কের অবনতির সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে পুরনো বন্ধুত্ব ফের ঝালিয়ে নিচ্ছে চিন। ২০১৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ভাইপো তালহা রশিদের সঙ্গে একটি সংঘর্ষ চলাকালীন প্রথম পাওয়া গিয়েছিল আমেরিকায় বানানো এম-৪ কার্বাইন রাইফেল। তবে সেই রাইফেল ছিল জইশ শীর্ষনেতাদের হাতেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনের তৈরি অস্ত্র শুধু শীর্ষনেতা নয়, জইশ-লস্করের সাধারণ জঙ্গিদেরও হাতে হাতে ঘুরছে। পাকিস্তানের অস্ত্র কারখানাগুলিতে (POF) যে গ্রেনেড এবং শেল তৈরি হয় তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম ভারতীয় সেনা। তাই এমন কিছু অস্ত্র তাদের দরকার যা দিয়ে কাবু করে ফেলা যায় ভারতীয় বাহিনীকে।

    মার্কিন নিউইয়র্ক টাইমস এর আগে দাবি করেছিল, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের আড়ালেই লুকয়ে রয়েছে যুদ্ধাস্ত্র তৈরির গোপন বোঝাপড়া। যার অংশীদার চিন ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করেই যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অত্যাধুনিক উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামরিক ডুবোজাহাজ তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছে চিন। ভারতের প্রতিরক্ষা দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, “চিন থেকে অস্ত্র সরাসরি ঢুকছে পাকিস্তানে। পাকিস্তান থেকে জম্মু-কাশ্মীরে আস্তানা গড়ে তোলা জঙ্গিদের হাতে এই অস্ত্র পাচার করার রাস্তা রয়েছে দুটি, এক সরাসরি উপত্যকায় অস্ত্র পাচার, দুই নেপাল হয়ে ঘুর পথে। যেহেতু নেপালের সঙ্গে কাশ্মীর সীমান্তের সরাসরি যোগ নেই, তাই মনে করা হচ্ছে পাক চর বা সেনা মারফৎ নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে এই সব অস্ত্র চালান হচ্ছে উপত্যকার জঙ্গিদের হাতে। ভারতের কাছে যেটা একান্তই চিন্তার বিষয়।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More