শুক্রবার, আগস্ট ২৩

‘তোমাকে শেষ করে দেব’, তামিলনাড়ুতে মন্দিরের বাইরে পুলিশকর্মীকে হুমকি জেলাশাসকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাধারণ মানুষ পাস না দেখিয়েই মন্দিরের ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে সেখানে কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মীকে রীতিমতো হুমকি দিলেন জেলাশাসক। তাঁর কেরিয়ার খতম করে দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি। পুরো ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তারপরেই সমালোচনার মুখে ওই জেলাশাসক।

শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম জেলার বরদারাজা পেরুমল মন্দিরে। এই মন্দিরের আরাধ্য দেবতা জলের নীচে থাকেন। ৪০ বছর অন্তর একবার কয়েক মাসের জন্য তাঁকে বাইরে নিয়ে আসা হয়। তাই এই সময় মন্দিরে ভিড় থাকে। লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী যান। ফলে ভিআইপি ও ভিভিআইপি গেটের ব্যবস্থা করা হয়। আর এই গেট দিয়ে সাধারণ মানুষ ঢুকে যাচ্ছে বলেই অভিযোগ করেন ওই জেলাশাসক।

সেখানে কর্তব্যবরত পুলিশ কর্মী রমেশকে প্রথমে ধমক দেন তিনি। তারপর রীতিমতো হুমকির সুরে বলেন, “তুমি এখানে প্রতারণা করতে এসেছ? আমি তোমাকে শেষ করে দেব। কত লোক পাস ছাড়া ঢুকে পড়ছে। যখন ভিআইপিরা আসছে, তাদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। সিনিয়র আইপিএস অফিসার, মন্ত্রীরা আসছে, সেটা কি তুমি জানো? তুমি শেষ। আজ তুমি সাসপেন্ড।”

শুধুমাত্র সেই পুলিশকর্মী নয়, রাজ্যের পুলিশের উপরেই নিজের ক্ষোভ উগরে দেন জেলাশাসক। তিনি বলেন, “তোমরা পুলিশরা খুব উদ্ধত। ইন্সপেক্টর জেনারেল কোথায়? তাকে আসতে বলো। এই পুলিশ কর্মীকে ( রমেশ ) সাসপেন্ড করতে বলো। তারপর যা হবে দেখে নেব।”

এই পুরো ঘটনার ভিডিয়ো করা হয়। ভিডিয়োতে দেখা যায়, ওই পুলিশ কর্মী বারবার ক্ষমা চাইছেন। কিন্তু তাতে আরও রেগে যাচ্ছেন জেলাশাসক। সূত্রের খবর, জেলাশাসক ভিআইপি গেটে বিশাল লাইন দেখে রেগে গিয়েছিলেন। তাই এভাবে ব্যবহার করেছেন তিনি। অথচ সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা শুধুমাত্র একজন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাকে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁরা লাইনে দাঁড়াতে পারছিলেন না বলে। তাতেই রেগে যান ওই জেলাশাসক।

পরে অবশ্য পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন ওই জেলাশাসক। রবিবার তিনি বলেন, “জেলার আধিকারিক ও পুলিশ একটাই দল। ব্যক্তিগত কারও বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই। আসলে সেদিন আমি একটু বেশি ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম।”

অবশ্য দর্শন করার ক্ষেত্রে অব্যবস্থার অভিযোগ আগেও উঠেছে এই মন্দিরের উপর। যেখানে  ভিআইপি-দের ৩০ মিনিটের মতো লাইনে দাঁড়াতে হয়, সেখানে সাধারণ মানুষকে দর্শনের জন্য ১২-১৩ ঘণ্টা লাইন দিতে হয়। গত মাসে ৬জনের মৃত্যু হয়েছিল এই লাইনে। কিন্তু সরকারের তরফে বলা হয়, পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন তাঁরা।

Comments are closed.