বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

সীমান্ত পেরিয়ে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে আঘাত হানবে ভারতীয় ড্রোনের ঝাঁক!

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সীমান্ত পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে এক ঝাঁক ড্রোন। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে এই ড্রোনগুলি এগিয়ে যাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে। তারপর আঘাত হানবে লক্ষ্যে। ধ্বংস করবে জঙ্গি ঘাঁটি থেকে আরম্ভ করে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির। পাল্টা হামলায় কিছু ড্রোন ধ্বংস হলেও বাকিরা তাদের কাজ করবে। তারপর কাজ সেরে ফিরে আসবে নিজের দেশেই।

না, সায়েন্স ফিকশনের কোনও গল্প নয়, পুরোটাই আসন্ন বাস্তব। আর এই আসন্ন বাস্তবকে কত তাড়াতাড়ি বাস্তবে পরিণত করা যায়, তার জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছেন বেঙ্গালুরুর হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড অ্যান্ড নিউ স্পেস রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিস-এর বিজ্ঞানীরা। দু’বছরের মধ্যে এই ড্রোন তৈরি করে পরীক্ষা করে দেখতে চান তাঁরা। এই ড্রোনের একটা নামও দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে চালিত এই ড্রোনের নাম আলফা-স ( এয়ার লঞ্চড ফ্লেক্সিবল অ্যাসেট )। যেহেতু এটা একঝাঁক ড্রোন, তাই নাম দেওয়া হয়েছে আলফা-স।

এই প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত এক ম্যানেজারের কথায়, “এটা ভবিষ্যতের আকাশপথে হামলার এক অন্যতম গুরুত্ত্বপূর্ণ অস্ত্র। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উন্নতির সঙ্গে আমরা এই অত্যাধুনিক ড্রোন বানাতে পারি। এর মাধ্যমে এমন অঞ্চলেও হামলা করা যায়, যেখানে বিমান নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। এমনকী এতে কোনও প্রাণহানিরও আশঙ্কা থাকে না। পুরোটাই প্রোগ্রামিংয়ের উপর নির্ভর করে হয়।”

জানা গিয়েছে, এই আলফা-স ড্রোনের দুটি ডানা থাকবে ও এগুলি লম্বায় এক একটি প্রায় ১.৫ মিটার হবে। এরকম বেশ কিছু ড্রোন, ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানের মধ্যে নেওয়া যাবে। তারপর একটা সুরক্ষিত জায়গায় গিয়ে সেই ড্রোনগুলিকে ছেড়ে দেবে সেই বিমান। তারপর ড্রোনগুলি নিজেদের ডানার সাহায্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য উড়ে যাবে। তাদের ওড়ার গতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ব্যাটারিচালিত এই ড্রোনগুলিতে ব্যাটারির সাহায্যে প্রায় ২ ঘণ্টা তারা উড়তে পারবে। তার মধ্যেই হামলা করে ফিরে আসতে হবে তাদের।

এই প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিকের কথায়, এই ড্রোনগুলিতে এমনই এক বিশেষ ধরণের সেন্সর থাকবে, যার মাধ্যমে তারা  শত্রুপক্ষের মিসাইল, র‍্যাডার কিংবা যুদ্ধবিমানকে চিহ্নিত করে তাতে হামলা করতে সক্ষম। এমনকী শত্রুপক্ষের র‍্যাডারে ধরা পড়ার আগেই তা নিজের কাজ করে ফেলবে, এমনটাই আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রতিটা ড্রোনে যথেষ্ট পরিমাণে বিস্ফোরক থাকবে, যা শত্রুপক্ষের বিমানকেও ধ্বংস করতে সক্ষম।

এই ধরণের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উপর নির্ভর করে যুদ্ধের পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই আমেরিকা, রাশিয়া বা চিন করে ফেলেছে। তার এই ধরণের ড্রোন বা অন্যান্য ধরণের অস্ত্র তৈরিও করে ফেলেছে। তারপরেই ভারতের তরফেও এই ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করা শুরু হয়। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে এই কমব্যাট এয়ার টিমিং সিস্টেম পোজেক্টকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থনও পাওয়া যায়। তারপরেই এই প্রকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা ও তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। দেখা যাক, এই ড্রোন তোইরির পর থেকে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জগতে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারত কীভাবে পাল্লা দেয়।

Comments are closed.