শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

অযোধ্যা রায়কে এক্ষুণি চ্যালেঞ্জ করার ভাবনা নেই: সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যা মামলার রায় নিয়ে এক্ষুণি চ্যালেঞ্জ করার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল উত্তরপ্রদেশের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

রায় ঘোষণার মিনিট পনেরোর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন মুসলিম পার্সোনাল ল বর্ডের আইনজীবীরা। তাঁদের তরফে আইনজীবী জাফর ইয়াব জিলানি বলেছিলেন, “এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার সুযোগ রয়েছে। পরিস্থিতির দাবি হল, আমরা যেন রিভিউ পিটিশন দাখিল করি।” কিন্তু বিকেল গড়াতেই উত্তরপ্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, কোনও রিভিউ পিটিশন দাখিল বা সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করার কোনও পরিকল্পনা ওয়াকফ বোর্ডের নেই। সেইসঙ্গে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের সভাপতি জাফর আহমেদ ফারুকি স্পষ্ট বলে দিলেন, “যদি কোনও আইনজীবী বা অন্য কেউ রিভিউ পিটিশনের কথা বলে থাকেন, তাহলে সেটা একান্তই তাঁর ব্যাপার। ওয়াকফ বোর্ড এ ব্যাপারে কোনও আলোচনা করেনি।”

সংবাদমাধ্যমকে ফারুকি বলেছেন, “আমি সভাপতি হিসেবে বলছি, এ নিয়ে কোনও রিভিউ পিটিশনের কথা বোর্ড আলোচনা করেনি।” তাঁর কথায়, “এটি একটি দীর্ঘ রায়। আমরা সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে সম্মান জানাচ্ছি। আগে ভাল করে আমরা এই রায়টি পড়ব। তারপর বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এই ইস্যুতে পরবর্তী কী করা হবে তা জানাব।”

রামমন্দির-বাবরি মসজিদ মামলার অন্যতম পার্টি ছিল ছিল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিকে। রামলালা, নির্মোহী আখড়ার সঙ্গে এক ভাগ দেওয়া হয়েছিল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকেও। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এদিনের রায়ে বিতর্কিত ওই জমিকে ট্রাস্টের মাধ্যমে হিন্দুদেরই দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ আদালত বলেছে, অযোধ্যাতেই অন্যত্র ৫ একর জমি মুসলমন সম্প্রদায়কে দিতে হবে মসজিদ নির্মাণের জন্য।

রায়ের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড রিভিউ পিটিশনকে ‘সময়ের দাবি’ বললেও, তা আপাতত উড়িয়েই দিল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

Comments are closed.