কোভিড সারাতে অগ্ন্যাশয়ের ওষুধ নাফামোস্ট্যাটের ট্রায়াল শুরু করছে মুম্বইয়ের সান ফার্মা, মিলেছে ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদন

জাপান, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াতে নাফামোস্ট্যাটের ক্নিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছে। ভারতে প্রথম এই ওষুধের ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে সান ফার্মা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: অগ্ন্যাশয়ের রোগ সারানোর দাওয়াই। প্যানক্রিয়াটাইটিসের প্রতিষেধক, আবার ক্যানসার রুখতেও এর ভূমিকা আছে। এমন ওষুধের ট্রায়াল হচ্ছে কোভিড চিকিৎসাতেও। দেশের অন্যতম বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মুম্বইয়ের সান ফার্মা জানিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদনে প্যানক্রিয়াটাইটিসের ওষুধ নাফামোস্ট্যাট মেসিলেটের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে করোনা রোগীদের উপরে। জাপান, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াতে নাফামোস্ট্যাটের ক্নিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছে। ভারতে প্রথম এই ওষুধের ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে সান ফার্মা।

    অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিসের দাওয়াই হিসেবে জাপানে নাফামোস্ট্যাটকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ডিসিমিনেটেড ইন্ট্রাভাস্কুলার কোয়াগুলেশন (DIC)অর্থাৎ রক্তজালিকায় ছোট ছোট ব্লাড ক্লট আটকাতেও এই ওষুধের প্রয়োগ হয়। কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, কোভিড চিকিৎসায় রেমডেসিভিরের থেকেও নাকি বেশি উপযোগী হতে পারে নাফামোস্ট্যাট। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণে যেহেতু খাদ্যনালীর সংক্রমণ, অগ্ন্যাশয়ে সংক্রমণ এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গও দেখা যাচ্ছে, তাই সান ফার্মা এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করার জন্য ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদন চেয়েছিল। জাপান, কোরিয়া, ইতালির বিজ্ঞানীদের থেকেও পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশেও এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল।

    সান ফার্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীলিপ সাংভি বলেছেন, “রোগীদের চিকিৎসায় নানা রকম ড্রাগের ট্রায়াল চলছে। নাফামোস্ট্যাটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সেভাবে দেখা যায়নি। এই ওষুধ নির্দিষ্ট ডোজে কোভিড রোগীদের উপর প্রয়োগ করা যেতে পারে।”

     

    অগ্ন্যাশয়ের ওষুধ কোভিড চিকিৎসায় কীভাবে কাজ করবে?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাফামোস্ট্যাটের অ্যান্টিভাইরাল গুণ রয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসাতেও কাজে আসে এই ওষুধ। খুব কম পরিমাণে এই ওষুধ কোভিড রোগীদের শরীরে প্রয়োগ করলে সংক্রমণের মাত্রা কমতে থাকে। সান ফার্মার গবেষকরা জানাচ্ছেন, ল্যাবরেটরিতে এই ওষুধের ক্নিনিকাল ট্রায়াল করে দেখা গেছে যে প্রোটিনের সাহায্যে ফুসফুসের কোষে ঢুকতে পারে ভাইরাস, নাফামোস্ট্যাট সেই প্রোটিনের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। সাধারণত মানুষের দেহকোষে ঢোকার জন্য ACE-2 রিসেপটর প্রোটিনের সাহায্য নেয় সার্স-কভ-২। এই প্রোটিনের সাহায্যে মানুষের শরীরে গবলেট ও সিলিয়েটেড কোষে অবাধে ঢুকতে পারে তারা। গবেষকরা বলছেন, ফুসফুসের কোষে সরাসরি এন্ট্রি নেওয়ার জন্য আরও একটি প্রোটিনের হাত ধরে এই ভাইরাস। সেই প্রোটিন হল TMPRSS2। নাফামোস্ট্যাটের কাজ হল এই প্রোটিনের ক্ষমতাকে কমিয়ে দেওয়া, যাতে ভাইরাস আর এই প্রোটিনকে শনাক্ত করতে না পারে। একবার যদি এই প্রোটিনকে দমিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে ফুসফুসের কোষে ভাইরাস আর সংক্রমণ ছড়াতে পারবে না।

    ইউরোপ, জার্মানি, কোরিয়ায় চলছে নাফামোস্ট্যাটের ট্রায়াল

    জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি, জার্মানির লেইবনিজ ইনস্টিটিউট ফর প্রাইমেট রিসার্চে নাফামোস্ট্যাটের ক্নিনিকাল ট্রায়াল চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পাস্তুর ইনস্টিটিউটে কোভিড রোগীদের এই ওষুধেই চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বিজ্ঞানীরা। পাস্তুর ইনস্টিটিউটের জুনটিক ভাইরাস ল্যাবের গবেষকরা বলেছেন, ২৪ রকমের ড্রাগের ট্রায়াল চলছে। তার মধ্যে আছে নাফামোস্ট্যাটও। এই ওষুধের প্রভাব করোনা রোগীদের উপরে সন্তোষজনক। দক্ষিণ কোরিয়ার জিওনসাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসায় নাফামোস্ট্যাটের ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইতালির ইউনিভার্সিটি, সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখ ইউনিভার্সিটি ও জাপানের ইয়োকোহোমা ইউনিভার্সিটিতে নাফামোস্ট্যাটের গবেষণা ও ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে।

     

    কোভিড সারাতে ৭০ রকমের ওষুধ নিয়ে সলিডারিটি ট্রায়াল চলছে বিশ্বে

    গবেষকরা বলছেন, মানুষের শরীরে ৩৩২টি এমন প্রোটিনের খোঁজ মিলেছে যারা সার্স-কভ-২ ভাইরাল প্রোটিনের সঙ্গে জোট বাঁধে। এই প্রোটিনগুলো বিশ্লেষণ করেই এমন ড্রাগ তৈরির চেষ্টা চলছে বা পুরনো ওষুধের ফর্মুলায় বদল এনে তাদেরকে নানা কম্বিনেশনে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে যারা ভাইরাল প্রোটিনের সঙ্গে বাহক কোষের প্রোটিনের যোগসূত্রটাকেই ভেঙে দেবে। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে ৭০ রকমের ওষুধ নিয়ে ট্রায়াল চলছে বিশ্বে, যার মধ্যে কয়েকটি সম্ভাবনাময়। যেমন, ইবোলার ওষুধ রেমডেসিভির। এই ওষুধের নির্মাতা সংস্থা গিলিয়েড সায়েন্সেস বিশ্বের ১২৭টি দেশের ফার্মা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে যার মধ্যে রয়েছে ভারতের তিন সংস্থা সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেস। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উদ্যোগে ভারতে রেমডেসিভির ওষুধের উপকরণ বানানো শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। জাপানি অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল ড্রাগ ফ্যাভিপিরাভিরের ট্রায়াল চলছে কোভিড চিকিৎসায়। সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ তথা সিএসআইআর (CSIR)-ডিরেক্টর জেনারেল শেখর সি মান্ডে বলেছিলেন, করোনা রোগীদের উপরে ভাল করতে পারে এই অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল ড্রাগ। জাপানি ড্রাগ ‘ফ্যাভিপিরাভির’ (Favipiravir) বা টি–৭০৫ বানিয়েছে জাপানের ফুজিফিল্ম টোয়ামা কেমিক্যাল। এই ড্রাগের ব্র্যান্ড নাম হল ‘অ্যাভিগান’ । তাছাড়া এইচআইভির ওষুধ লোপিনাভির ও রিটোনাভিরেরও ট্রায়াল চলছে কোভিড চিকিৎসায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More