অমিতের পরিতাপ, ‘গোলি মারো’ স্লোগান দেওয়া ঠিক হয়নি

তীব্র সমালোচনার মধ্যেও সেই সময়ে ভালমন্দ কিচ্ছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু দিল্লির ভোটে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাওয়ার পর ‘পরিতাপ’ শোনা গেল অমিত শাহের গলায়। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে শাহ বলেছেন, “গোলি মারোর মতো মন্তব্য করা উচিত হয়নি। একই সঙ্গে দিল্লির ভোটকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলেও ঠিক করেননি বিজেপি নেতারা।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হয়েছিল সেই ভিডিও। কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর দিল্লির নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে বলছেন, “দেশ কি গদ্দারো কো’, আর জনতা গলা মিলিয়ে বলছে, “গোলি মারো শালো কো।”

    তীব্র সমালোচনার মধ্যেও সেই সময়ে ভালমন্দ কিচ্ছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু দিল্লির ভোটে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাওয়ার পর ‘পরিতাপ’ শোনা গেল অমিত শাহের গলায়। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে শাহ বলেছেন, “গোলি মারোর মতো মন্তব্য করা উচিত হয়নি। একই সঙ্গে দিল্লির ভোটকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলেও ঠিক করেননি বিজেপি নেতারা।” সদ্য প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি মনে করেন, এই ধরনের মন্তব্য জনগণের সঙ্গে আরও দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দিল্লির ভোটে।

    অমিত শাহ একাধিক সাক্ষাৎকার, জনসভায় বলেছিলেন, দিল্লিতে এবার বিজেপির সরকার হচ্ছেই। কেউ আটকাতে পারবে না। এমনকি অমিত শাহের কথায় অক্সিজেন পেয়ে দিল্লির বিজেপি প্রধান মনোজ তিওয়ারির মতো নেতারা আসন সংখ্যা কত হবে তা নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করতে শুরু করে দিয়েছিলেন। এদিন একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের আলোচনা সভায় শাহ স্বীকার করে নিয়েছেন, “দিল্লির ভোট নিয়ে আমার অনুমান ভুল ছিল।”

    দিল্লি দখল করতে কী করেনি বিজেপি। অমিত শাহ, প্রকাশ জাভড়েকর, স্মৃতি ইরানির মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তো বটেই, ৭০টি কেন্দ্রের জন্য নামিয়ে দিয়েছিল ২৭০জন সাংসদকেও। কিন্তু তাতেও কিছু হয়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন অমিত শাহ যতই বলুন উচিত হয়নি, যখন এই ঘটনা ঘটছে কই তখন তো আটকাননি! নিন্দা করে একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেননি।

    তাঁদের মতে, মেরুকরণকে তীব্র করতেই বিজেপি নেতারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ওই সমস্ত গরম গরম ভাষণ দিয়েছিলেন। শাহিনবাগকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করে হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করতে চেয়েছিলেন। বিজেপির মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ দলের নেতারা নিজের মতো করে ওই ধরনের কথা বলেছেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেও মনে করেন তাঁরা। পর্যবেক্ষকদের আরও বক্তব্য, মেরুকরণ করতে গিয়ে ব্যুমেরাং হয়েছে বিজেপির। হিন্দু ভোটের বিভাজন হয়েছে। আর ‘গোলির ভয়ে’ সংখ্যালঘু ভোট ঢেলে এসে পড়েছে আম আদমি পার্টির বাক্সে। তাই হয়তো শাহ আজকে এই ধরনের কথা বলতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More