দিল্লির হিংসা: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ফোন পেয়েও ঠুঁটো জগন্নাথ ছিল পুলিশ

অভিযোগই করলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালের ছেলে তথা রাজ্যসভার সাংসদ নরেশ গুজরাল। বললেন, তিনি নিজে পুলিশে ফোন করার পরেও পুলিশ কোনও অ্যাকশন নেয়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লি। এই হিংসায় ইতিমধ্যেই প্রাণ গিয়েছে ৩৪ জনের। আগুন জ্বলছে দিল্লিতে। সংঘর্ষ থামানোর ক্ষেত্রে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার দিকে অভিযোগ করেছেন অনেকে। সেই অভিযোগই করলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালের ছেলে তথা রাজ্যসভার সাংসদ নরেশ গুজরাল। বললেন, তিনি নিজে পুলিশে ফোন করার পরেও পুলিশ কোনও অ্যাকশন নেয়নি।

    সম্প্রতি দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে লেখা নরেশ গুজরালের একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। সেখানেই তিনি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন কমিশনারকে। এই চিঠিতে গুজরাল লিখেছেন, “বুধবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ আমার কাছে একটা ফোন আসে। ফোনে আমি জানতে পারি দিল্লির মৌজপুরের গোন্ডা চক এলাকায় একটি বাড়িতে ১৬ জন মুসলিম আটকে পড়েছেন। বাইরে থেকে একদল মানুষ সেই বাড়িতে ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করছে।”

    একথা জানার পরেই পুলিশকে তিনি ফোন করেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ। তিনি বলেন, “সঙ্গে সঙ্গে আমি ১০০ নম্বরে ডায়াল করে পুলিশকে সব কথা জানাই। আমাকে যিনি ফোন করেছিলেন তাঁর ফোন নম্বর আমি পুলিশকে দিই। এমনকি এও জানাই, আমি একজন সাংসদ। রাত ১১টা ৪৩ নাগাদ আমি একটা করফার্মেশন পাই, যে পুলিশ আমার অভিযোগ নিয়েছে।”

    অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নরেশ গুজরাল। তিনি বলেন, “আমার অভিযোগের পরেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। কোনও পুলিশকর্মীই সেখানে যাননি। আমি পরে জানতে পারি সেখানকারই কিছু হিন্দু বাসিন্দার সাহায্যে প্রাণে বেঁচেছেন ওই ১৬ জন মুসলিম। যদি একজন সাংসদের অভিযোগকেই গুরুত্ব সহকারে না দেখা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অভিযোগের কী দাম থাকে। বোঝাই যাচ্ছে কেন পুলিশ থাকা সত্বেও দিল্লির একটা অংশ জ্বলছে।”

    সাংসদ নরেশ গুজরালের এই অভিযোগের পরে অবশ্য দিল্লি পুলিশের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে তিনি যে অভিযোগ করেছেন, সেই অভিযোগ বারবার করছেন দিল্লির মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, যেখানে অশান্তি নেই, সেখানে পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। অথচ যেখানে গণ্ডগোল হচ্ছে, সেখানে তারা যাচ্ছেন না। অভিযোগ করার পরেও তাদের দেখা মিলছে না। নির্বিচারে সম্পত্তি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। কোথাও আবার পুলিশ এলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। কার নির্দেশে এভাবে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে আছে পুলিশ, সেই প্রশ্নই তুলছেন সাধারণ মানুষ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More