প্রধানমন্ত্রীকে লাদাখে ‘বন্দে মাতরম’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে স্বাগত জানালেন জওয়ানরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও আগাম ঘোষণা ছাড়াও শুক্রবার সকালে লেহ ও লাদাখে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে মোতায়েন জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের মনোবল বাড়ান। আর প্রধানমন্ত্রী সেখানে পা দিতেই তাঁকে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে স্বাগত জানাতে দেখা গেল সেনা জওয়ানদের।

    প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছনোর পরেই একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দেখা যাচ্ছে পরনে জ্যাকেট, প্যান্ট ও মাস্ক পরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে ঘিরে রয়েছেন জওয়ানরা। তখনই এই দেশাত্মবোধক ধ্বনি তুলতে দেখা যায় তাঁদের। নিজের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও ছবি শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী।

    শুক্রবার সকালে প্রথমে লেহ-তে যান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দফতরের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, খুব ভোরেই লাদাখে পৌঁছন মোদী। সেনাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১ হাজার ফুট ওপরে নিমু এলাকার সেনাঘাঁটিতে চলে আলোচনা। জাঁসকর নদী-ঘেঁষা ওই এলাকাটি খুবই দুর্গম বলেও দাবি করা হয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে।

    লাদাখের এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর মোদীর সঙ্গে রয়েছেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং সেনাপ্রধান এমএম নারভানে। সিন্ধু নদের তীরে জাঁসকর রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী এদিন সেনাবাহিনী এবং আইটিবিপি-র জওয়ান ও অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। লাদাখ সীমান্তে দেশের সামরিক পরিস্থিতি কতটা টানটান তা পর্যালোচনা করেন। তা ছাড়া ২০ জন জওয়ান শহিদ হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে সেনাবহিনীর অফিসার ও জওয়ানদের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের তারিফ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছনোর পর যে কয়েকটি ছবি সামনে এসেছে তাতে দেখা গিয়েছে, সেনা ছাউনিতে বসে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ছাউনির বাইরে সারিবদ্ধভাবে বসে সেনা ও ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের জওয়ানরা। তাঁরা সারিবদ্ধভাবে বসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সেনার মনোবল যে বেশ খানিকটা বাড়ল তা বলাই বাহুল্য।

    গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় জওয়ানদের উপর হামলা চালায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। অতর্কিত এই হামলায় ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। ভারতের হাতে চিনের অন্তর ৩৫ জওয়ান নিহত হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনার পর থেকেই বদলা নেওয়ার দাবি আসে নানা মহল থেকে। কেন্দ্র সরকারের তরফেও কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়, চিনের অন্যায় সহ্য করা হবে না।

    সীমান্তে শান্তি ফেরাতে দুই দেশের মধ্যে সেনার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও মেলেনি কোনও সমাধানসূত্র। বরং চিন ক্রমেই বাড়িয়েছে সেনা মোতায়েন। আরও বেশি ঢুকে এসেছে ভারতীয় ভূখণ্ডে। উপগ্রহ চিত্রে বাঙ্কার বানানো ও সেনা মোতায়েনের ছবি ধরা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে গিয়ে পৌঁছলেন লাদাখে। মনোবল বাড়ালেন ভারতীয় সেনাদের। আর তাঁকে দেখেই বন্দেমাতরম ও ভারত মাতা কি জয় ধ্বনিতে তাঁকে স্বাগত জানালেন জওয়ানরাও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More