২৫ বছরে ২৫ হাজার বেওয়ারিশ দেহ সৎকার, ফৈজাবাদের ‘চাচা’ পেলেন পদ্মশ্রী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফৈজাবাদের চাচা শরিফকে এক কথায় চেনেন সকলে। বয়স আশির কোঠায়। এখনও টানটান শরীর। মুখে হাসি যেন লেগেই আছে। আসল নাম মহম্মদ শরিফ, তবে ফৈজাবাদ ও আশপাশের এলাকার লোকজনের কাছে তিনি অতি আপন ‘চাচা।’ রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আত্মার আত্মীয়।

কেন এত আপন হলেন চাচা! ফৈজাবাদে কান পাতলেই শোনা যাবে চাচা শরিফের আশ্চর্য কাহিনি। মৃতদেহ সৎকার করেন চাচা। না, তিনি পেশায় ডোম নন। শব বহন করাও তাঁর কাজ নয়। পেশাও নয়, নেশাও নয়, মানবিকতার টান। অচেনা, অজানা মানুষের শবদেহের প্রতি কি একটা কর্তব্যের টানে জড়িয়ে পড়েন চাচা শরিফ। বেওয়ারিশ দেহ, ক্ষতবিক্ষত লাশ, যার দাবিদার কেউ নয়, সেই দেহই পরম মমতায় সৎকার করে চলেছেন চাচা শরিফ। টানা ২৫ বছর ধরে কম করেও ২৫ হাজার মৃতদেহের শেষকৃত্য করেছেন চাচা।

ফৈজাবাদে সাইকেল সারানোর ছোটখাটো দোকান আছে চাচার। এটাই তাঁর পেশা, রুজি-রুটি। অভাবের সংসার। তাতে সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা কমেনি। কিসের দায়, কিসের কর্তব্য তার সঠিক জবাব বোধহয় চাচার কাছেও নেই। শুধু মানুষের প্রতি মানুষের যে স্বাভাবিক কর্তব্যটুকু থেকে যায় তাকেই আঁকড়ে ধরে পথ চলছেন ফৈজাবাদের চাচা মহম্মদ শরিফ।

জাত-ধর্মের তোয়াক্কা করেননি কোনওদিন। যে দেহ সৎকারের জন্য তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, তার ধর্ম কী, সেটা বড় নয় চাচার কাছে। বরং যে প্রাণ নিভে গেছে, তাকে তার অন্তিম পরিণতিতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বই তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে। ফৈজাবাদের মানুষজনের কাছে তাঁর পরিচয় সমাজ-সেবী। কিন্তু নিজের কাছে তিনি শুধুই একজন ‘কমন ম্যান’, যিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারেন সমাজ শুধু স্বার্থের জালে জড়ানো নয়, মানবিকতার আশাটুকু এখনও জাজ্জ্বল্যমান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More