রবিবার, মার্চ ২৪

পুলওয়ামা হামলা: প্রাক্তন আফগান সেনা অফিসারকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন গোয়েন্দারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হানার পর ইতিমধ্যে ১৩ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে সেনা গোয়েন্দা ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর তদন্ত টিমের সন্দেহ গোটা ঘটনার ষড়যন্ত্রের মাথা ছিল সম্ভবত প্রাক্তন এক আফগান সেনা অফিসার। সেই হামলার প্লট সাজিয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের একটি অংশ সন্দেহ করছে।

পুলওয়ামা কাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যে সেনা গোয়েন্দা ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী একাধিক টিম গঠন করেছে। প্রাথমিক ভাবে ১৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। তবে প্রধানত তাঁরা খুঁজছেন সাত জন জঙ্গিকে। যারা জম্মু ও কাশ্মীরে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদের ‘ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ হিসাবে কাজ করছে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পুলওয়ামায় আধা সামরিক বাহিনীর কনভয়ে হামলার পর পরই ঘটনায় দায় স্বীকার করেছিল জইশ ই মহম্মদ। যার মূল পাণ্ডা মাসুদ আজহার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বহাল তবিয়তেই রয়েছে।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, কে এই অবসরপ্রাপ্ত আফগান সেনা কর্তা?

গোয়েন্দা সূত্রে বলা হচ্ছে, ওই প্রাক্তন আফগান সেনা অফিসার হল ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস তথা ‘আইইডি’ বিশেষজ্ঞ। যে স্থানীয় ভাবে কামরান নামে পরিচিত। জম্মু কাশ্মীর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গত ডিসেম্বর মাসে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল কামরান। সম্ভবত সেটা ৯ ডিসেম্বর। পাকিস্তান থেকে তার সঙ্গে উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করেছিল আরও দুই জঙ্গি। পুলওয়ামা এলাকাতেই গা ঢাকা দিয়েছিল তারা। দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা, অবন্তীপোরা ও ত্রাল এলাকায় এরপর কামরান ‘কাজে’ নেমেছিল বলে জম্মু কাশ্মীর পুলিশের কাছে খবর। তবে পুলিশের কাছে তখন খবর ছিল, ওই আফগানের নাম হল আবদুল রশিদ গাজি। পরে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, সে স্থানীয় ভাবে কামরান নামে পরিচিত ছিল।

গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, বৃহস্পতিবার পুলওয়ামার যে রকম আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তাতে মনে করা হচ্ছে এটা কোনও পাকা হাতের কাজ। আর সেই কারণেই কামরানের উপর সন্দেহ তৈরি হয়েছে গোয়েন্দাদের। তবে তার পাশাপাশি আরও এক জনকে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা। তদন্তের স্বার্থে তার নাম অবশ্য এখনই জানাতে চাননি গোয়েন্দারা।

তবে পুলওয়ামা কাণ্ডে কামরানই প্রধান মাথা ছিল কিনা সে বিষয়ে গোয়েন্দাদের মধ্যে মতান্তরও রয়েছে। গোয়েন্দাদের একাংশের মতে, বিস্ফোরকগুলি খাপছাড়া ভাবে বাধা হয়েছিল। আঁঁটোসাঁঁটো বা টাইট করে বাঁঁধা হয়নি। কারণ, তা হলে বিস্ফোরণের প্রভাব আরও বেশি হতো। কেন না, হিসাব মতো ন্যূনতম একশ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে এসেছিল জঙ্গিরা। ওই পরিমাণ বিস্ফোরক দিয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করতে পারত ওরা। পাকা হাতের কাজ হলে হয়তো বিস্ফোরক এ ভাবে বাঁঁধা হত না।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত সপ্তাহেই জম্মু কাশ্মীর পুলিশ জইশ ই মহম্মদের একটি প্রাইভেট টুইটার হ্যান্ডেল থেকে একটা ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে। ওই টুইটে ৩৩ সেকেন্ডের একটা ভিডিও ছিল। যাতে দেখা যাচ্ছে, সোমালিয়ায় সেনা কনভয়ের উপর জঙ্গি হামলা করা হচ্ছে। ভারতেও তেমন আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা যে জইশ ই মহম্মদ করছে তার ইঙ্গিত ছিল ওই টুইটে। তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বক্তব্য, এ ধরনের লিড প্রায়শই পাওয়া যায়। তারপর তা খতিয়ে দেখে বিশেষ কিছু মেলে না। এ ক্ষেত্রেও তখন কিছু পাওয়া যায়নি।

Shares

Comments are closed.