লকডাউনের মধ্যে জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ বন্ধ থাক, সুপ্রিম কোর্টকে আর্জি কেন্দ্রের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব কিছু বন্ধ। ফলে সমস্যায় পড়েছেন দিনমজুররা। তাঁরা কাজ পাচ্ছেন না। যদিও সরকারের তরফে এই মজুরদের জন্য একাধিক সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে, তারপরেও এর বিরুদ্ধে বারবার পাবলিক ইনটারেস্ট লিটিগেশনস (পিএআইএল ) বা জনস্বার্থ মামলা ফাইল করা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে। এই পরিস্থিতিতে যেন কোনও পিআইএল গ্রহণ না করা হয়, সেই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানাল কেন্দ্র।

    শুক্রবার কেন্দ্রের তরফে এই আবেদনে দেশের শীর্ষ আদালতকে জানানো হয়েছে, এই পিআইএল যাঁরা ফাইল করছেন, তাঁরা আসল সত্যিটা না দেখে এসির মধ্যে বসে থেকে এই আবেদন করছেন। বর্তমান পরিস্থিতি তাঁরা দেখছেন না। সরকারের প্রচেষ্টার দিকেও তাঁদের বিন্দুমাত্র লক্ষ্য নেই।

    লকডাউনের মধ্যে মজুরদের দেখভালের জন্য কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই ব্যাপারেই বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও এবং বিচারপতি দীপক গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চে পিআইএল ফাইল করেছেন সমাজকর্মী হর্ষ মান্দের, অঞ্জলি ভরদ্বাজ ও স্বামী অগ্নিবেশ। এই পিআইএলের বিষয়ে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন বিচারপতিরা। তাঁদের সলিসিটার জেনারেল বলেন, করোনা সংক্রমণ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র।

    তুষার মেহতা বলেন, এই পরিস্থিতিতে দিনমজুর ও অন্যান্য গরিব মানুষদের জন্য একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এছাড়াও রাজ্যগুলিকেও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে, যাতে বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের দেখভাল হয়। কেন্দ্র জানিয়েছে, কেউ অভুক্ত থাকবেন না। তিনি আরও বলেন, দেশ এই মুহূর্তে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সবাই দিন-রাত জেগে কাজ করছেন।

    বিচারপতিদের উদ্দেশে সলিসিটার জেনারেল বলেন, যাঁরা এইসব পিআইএল ফাইল করছেন, তাঁরা নিজেরা গরিবদের সাহায্যের জন্য কিছুই করেননি। এসি ঘরে বসে থেকেছেন। সরকারকেও এই কাজে সাহায্য করেননি। তাই মানুষের স্বার্থে তাঁরা কিছু করছেন না। তাঁদের আসল উদ্দেশ্য হল সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি করা। তাই যতদিন না এই পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্ত হচ্ছে ততদিন এই ধরনের পিআইএল গ্রহণ করা বন্ধ হোক। সুপ্রিম কোর্টকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে আবেদন জানাচ্ছে কেন্দ্র।

    এদিন সলিসিটার জেনারেল আরও বলেন, দেশজুড়ে অনেক এনজিও রয়েছে যারা সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দিন-রাত গরিব মানুষের সেবা করছে। সেই এনজিওদের বিরুদ্ধেও পিআইএল ফাইল হচ্ছে। তাঁকে নাকি একাধিক রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে এই পিআইএলের জবাব দিতে গিয়ে এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সময় নষ্ট হচ্ছে দেখে তাঁদের খারাপ লাগছে।

    সুপ্রিম কোর্টের কাছে তুষার মেহতা আবেদন করেছেন, এই সময় দেশে করোনা মোকাবিলায় যাঁরা যুক্ত, তাঁদের যেন এই সব পিআইএলের কারণে সময় নষ্ট না হয়, তা দেখুক শীর্ষ আদালত। কারণ এই পরিস্থিতিতে সবার প্রাথমিক লক্ষ্য এই ভাইরাসের হাত থেকে দেশবাসীকে বাঁচানো। তাই তাঁদের কাজে কোনও বাধা আসা উচিত নয় বলেই মনে করছে কেন্দ্র। তাই এই আবেদন।

    এখন দেখার কেন্দ্রের এই আবেদন শুনে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More