পরিবারকে দূর থেকে দেখেই ফের হাসপাতালে, দিন-রাত এভাবেই করোনা আক্রান্তদের সেবায় পঞ্জাবের ডাক্তার

ভারতে দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। আর তাঁদের সুস্থ করে তোলার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন গুরপাল কাটারিয়ার মতো ডাক্তাররা। নিজেদের পরিবারের থেকে দূরে, পরিবারকে চোখের দেখা দেখেই দিন-রাত লড়াই করছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল কয়েক মিনিটের জন্য। তাও বাড়ির বাইরে থেকে। দূর থেকে দেখেই ফিরে যেতে হয়েছে কাজের জায়গায়। এই মুহূর্তে কত লোকের জীবনের দায়িত্ব কাঁধে। আর তাই সেখানে পরিবারকেও দূরে সরিয়ে রাখতে হচ্ছে ডক্টর গুরপাল কাটারিয়াকে।

    পঞ্জাবের নওয়ানশহরের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক এই গুরপাল কাটারিয়া। এই মুহূর্তে সেই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ১৮ করোনা আক্রান্ত রোগী। তাঁদের দায়িত্ব গুরপালের কাঁধেই। আর তাই ৬০ কিলোমিটার দূরে জলন্ধরে বাড়ি যাওয়ার সময় হয় না। যদিও ফোনে কথা হয়, তবুও চোখের দেখা হয় না পরিবারের সঙ্গে। দু’সপ্তাহ আগে শেষবার বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি।

    বাড়ি গেলেও বাড়ির ভেতরে ঢোকেননি তিনি। গুরপালের কথায়, “সতর্কতা অবলম্বন করায় বাড়ির ভেতরে আমি ঢুকিনি। বাইরে থেকে পরিবারের সবাইকে দেখেই কাজে ফিরে গিয়েছি। তাঁর স্ত্রী হোসিয়ারপুরের একটি হাসপাতালের ডেন্টিস্ট। তিনিও নিজের কাজে রয়েছেন। আর এই নিয়ে গর্ব তাঁদের ১৬ বছরের মেয়ের।

    ডক্টর গুরপালের কথায়, “আমার মেয়ে এবার ক্লাস ১০-এর পরীক্ষা দেবে। ও আমাকে সবসময় নিজের খেয়াল রাখতে বলে। বাবা-মা দু’জনেই দেশের কাজ করছে বলে মেয়ের খুব গর্ব।”

    এখনও অবধি পঞ্জাবের এই জেলায় ১৯ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যা রাজ্যে সবথেককে বেশি। ইতিমধ্যেই এখানে ৭০ বছরের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা সবাই হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা ও এক আড়াই বছরের শিশুও আছে।

    গুরপাল জানাচ্ছেন, এই মুহূর্তে রোগীরা খুব ভয়ে রয়েছেন। তাঁরা প্রতিদিন জানতে চাইছেন এখনও পর্যন্ত কতজন আক্রান্ত হল বা মারা গেল। তাই চিকিৎসার পাশে তাঁদের কাউন্সেলিংও করছেন তাঁরা। গুরপাল বলেন, “এই জায়গাটা আমাদের কাছে মন্দিরের মতো। রোগীদের মুখে হাসি দেখতে পেলেই আমাদের সব পরিশ্রম সার্থক। আমরা সবসময় করোনা আক্রান্ত রোগীদের কাউন্সেলিং করছি। তাঁদের বুঝিয়ে বলছি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাঁদের মনোবল যাতে কমে না যায়, সেই চেষ্টা করছি আমরা। আশা করছি ওঁরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরে আমাদের মনে রাখবেন।”

    ভারতে দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। আর তাঁদের সুস্থ করে তোলার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন গুরপাল কাটারিয়ার মতো ডাক্তাররা। নিজেদের পরিবারের থেকে দূরে, পরিবারকে চোখের দেখা দেখেই দিন-রাত লড়াই করছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More