মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

ওয়াঘা সীমান্তে উদ্বেগের প্রহর কাটিয়ে ১১৭ জন যাত্রী নিয়ে দিল্লি পৌঁছল সমঝোতা এক্সপ্রেস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াঘা পেরিয়ে অবশেষে দিল্লি পৌঁছল সমঝোতা এক্সপ্রেস। প্রায় ঘণ্টা চারেকের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার প্রহর কাটিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধে ৮টা নাগাদ দিল্লি পৌঁছয় সমঝোতা।

বৃহস্পতিবারই সাংবাদিক বৈঠক করে আনুষ্ঠানিক ভাবে সমঝোতা এক্সপ্রেসের পরিষেবা বন্ধের ঘোষণা করেন পাকিলস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ। তিনি যখন এই ঘোষণা করছেন, ততক্ষণে পাকিস্তানের লাহৌর থেকে ভারতে রওনা দিয়ে দিয়েছে সমঝোতা। ওয়াঘা সীমান্তে আসতেই ট্রেনের পাকিস্তানি গার্ড, চালক ও অন্যান্য কর্মীরা ভারতে ঢুকতে অস্বীকার করেন। ফলে ট্রেনের ভিতরেই আটকে পড়েন ১১৭ জন যাত্রী। যাঁদের মধ্যে আবার ৪৮ জন ছিলেন পাকিস্তানি। ওয়াঘার স্টেশন মাস্টার প্রথমে ভারত সরকারকে চিঠি লিখে জানান, পাকিস্তানের রেলকর্মীরা সমঝোতা এক্সপ্রেস নিয়ে ভারতে ঢুকতে চাইছেন না। তাই ভারত ট্রেনটিকে আনার জন্য কয়েকজন রেলকর্মী পাঠাক। তাঁদের যেন পাসপোর্ট ও ভিসা থাকে।

প্রায় ঘণ্টা চারেকের উদ্বেগের পরে ভারতীয় রেলের চালক, গার্ড ও কর্মীদের দল সেখানে পৌঁছয়। তাঁরাই ভারতের এ পারে আটারি পর্যন্ত নিয়ে আসেন ট্রেনটিকে।

গত ৫ অগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় ঘোষণা করেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হল। তারপরেই ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রায় বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। গত বুধবারই ইসলামাবাদে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিস্কার করে ইসলামাবাদ। অর্থাৎ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একপ্রকার ছিন্নই করেছে তারা। পুলওয়ামা ও বালাকোট কাণ্ডের পরে পাকিস্তানের আকাশসীমা ভারতের জন্য আগেই বন্ধ করে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। যদিও পরে ইসলামাবাদের তরফে জানানো হয়েছিল পাক আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। এ বার ৩৭০ ধারা রদের পরে নিষেধাজ্ঞা জারি হলো দিল্লি-লাহৌর সমঝোতা এক্সপ্রেসের উপরেও।

শিমলা চুক্তির পর ১৯৭৬ সালের ২২ জুলাই দু’দেশের মধ্যে চালু হয়েছিল এই ট্রেন পরিষেবা।  পাকিস্তানের দিক থেকে এই ট্রেন ছাড়ে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায়। ভারতের দিক থেকে এই ট্রেন প্রতি বুধবার ও রবিবার রাত ১১টা ১০মিনিটে পুরনো দিল্লি স্টেশন থেকে ছাড়ে। যদিও ভারতীয় রেল জানিয়েছে, দিল্লি-লাহৌর সমঝোতা এক্সপ্রেস সত্যি বন্ধ হয়ে গেল কি না সে বিষয়ে পাকা খবর তাদের কাছে নেই।

Comments are closed.