শনিবার, মার্চ ২৩

শহিদ জওয়ানদের পরিবারের পাশে ‘শিরডি সাই ট্রাস্ট’, পাঠাচ্ছে ২.৫১ কোটি টাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারও সন্তানের বয়স চার বছর। কেউ বা ছয়। অনেকের বাড়িতেই আবার রয়েছেন সন্তানসম্ভবা স্ত্রী। তবে এই সব বাড়িগুলোতেই এখন আবহাওয়া খুব গুমোট। বৃহস্পতিবার পুলওয়ামার ভয়াবহ বিস্ফোরণ কেড়ে নিয়েছে এই পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে। জঙ্গি হামলায় শহিদ হয়েছেন কারও ভাই, কারও বাবা, কারও ছেলে।

স্বামীহারা স্ত্রী, পিতৃহারা সন্তান কিংবা সন্তানহারা বাবা-মা, শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন অনেকেই। মাথায় ভিড় করেছে হাজার চিন্তা। ছেলেমেয়ের পড়াশোনা কী ভাবে চলবে? সংসার চলবে কী ভাবে সেই চিন্তাতেও রাতের ঘুম উড়েছে অনেকেরই। এই শহিদ জওয়ানদের পরিবারের পাশেই এ বার দাঁড়ালো মহারাষ্ট্রের শিরডি সাই মন্দির। সাই বাবার জাগ্রত এই মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘শিরডি ট্রাস্ট’ পুলওয়ামায় শহিদ হওয়া জওয়ানদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে। নিহত জওয়ানদের পরিবারকে মন্দিরের তরফে ২.৫১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

শহিদ জওয়ানদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন অমিতাভ বচ্চনও। তাঁর ব্যাক্তিগত সচিব জানিয়েছেন, প্রত্যেক শহিদ জওয়ানের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেবেন বলেন ঠিক করেছেন বিগ বি। কোন উপায়ে এই টাকা তাড়াতাড়ি এবং সহজে পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব আপাতত সেই খোঁজেই ব্যস্ত রয়েছেন অভিনেতা। অমিতাভের ওই সচিবের কথায়, “বিগ বি চান না কোনও প্রতারণা হোক। তাই নিজেই টাকা পাঠানোর সবচেয়ে ভরসাযোগ্য মাধ্যম খুঁজতে নেমেছেন।”

শহিদ জওয়ানের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুই প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বীরেন্দ্র শেহওয়াগ এবং গৌতম গম্ভীর। শেহওয়াগ এবং গম্ভীর দু’জনেই জানিয়েছেন, শহিদ জওয়ানদের সন্তানদের পড়াশোনার সব দায়িতেও নিতে চান তাঁরা। পেমেন্ট অ্যাপ সংস্থা ‘পেটিএম’-ও চালু করেছে একটি বিশেষ ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে ওই অ্যাপের সাহায্যে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পাঠানো যাবে শহিদ জওয়ানদের পরিবারকে। হিন্দি সিনেমা ‘উরি’-র টিমও জওয়ানদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সতর্কতা ছিল। তা সত্ত্বেও উপত্যকায় রোখা যায়নি ফিদায়ঁ হামলা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ সিআরপিএফ-এর কনভয়ে হামলা চালায় জইশ জঙ্গি আদিল আহমেদ দার ওরফে ওয়াকাস। প্রাথমিক ভাবে জানা যায় আত্মঘাতী জঙ্গি হানায় নিহত হয়েছেন ৪০জন জওয়ান।

তবে জানা গিয়েছে আরও জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে এই বিস্ফোরণে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৯। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অনেকে। বাদামিবাগের আর্মির ৯২ বেস হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে আহত জওয়ানরা।

হামলার দিন প্রায় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই স্করপিও গাড়ি নিয়ে সিআরপিএফ-এর ট্রাকে ধাক্কা মারে আত্মঘাতী জইশ জঙ্গি আদিল দার। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, ওই বিস্ফোরকের পুরোটাই ছিল হেভি এক্সপ্লোসিভ আরডিএক্স-এ ঠাসা। আর সেই জন্যেই বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল মারাত্মক। প্রায় ৮০ মিটার দূরে ছিটকে গিয়ে পড়েছিল নিহত জওয়ানদের দেহ। সেনার ট্রাকে ধাক্কা মারার পর জওয়ানদের ঘিরে ধরে গুলিবৃষ্টি শুরু করে জইশ জঙ্গিরা। এ দিনের ভয়ানক বিস্ফোরণে দু’টুকরো হয়ে যায় সিআরপিএফ-এর ট্রাকটি। ঘটনাস্থলে ১০০ মিটার জুড়ে কেবলই নজরে এসেছে জওয়ানদের ছিন্ন-ভিন্ন দেহ।

Shares

Comments are closed.