রাজস্থানে ডামাডোল! হঠাৎ দিল্লি এসে কংগ্রেসকে উৎকণ্ঠায় ফেললেন শচীন পাইলট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার দুপুরে হঠাৎই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বোমা ফাটিয়েছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। বলেছিলেন, বিজেপি নাকি রাজস্থানে সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। অনেক কংগ্রেস বিধায়ককে ১৫ কোটি টাকা করে অফারও করেছে তারা। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের নাটক। রবিবার সকালে হঠাৎই নিজের অনুগামীদের নিয়ে দিল্লি চলে গিয়েছেন কংগ্রেস নেতা তথা রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট। আর তাতেই এই ডামাডোল আরও বেড়েছে।

    সূত্রের খবর, দিল্লিতে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতেই নাকি দিল্লি এসেছেন পাইলট। তাঁদের কাছে রাজস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে সঠিক ছবিটা তুলে ধরতেই নাকি তাঁর রাজধানীতে আসা। কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্বও নাকি আর চাইছে না রাজস্থানেও ফের মধ্যপ্রদেশের মতো অবস্থা হোক। এই ব্যাপারে গতকালই রাহুল ও সনিয়াকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে দলের তরফে।

    কংগ্রেসের এক বর্ষীয়ান নেতা বলেছেন, “আমরা নিশ্চিত মধ্যপ্রদেশের মতো অবস্থা রাজস্থানে হবে না। সনিয়া গান্ধী এই বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই অনুযায়ীই একসঙ্গে কাজ করব আমরা।”

    কিন্তু বিষয়টি যে অতটা সহজ নয়, তা কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্ব জানেন। তাই এখনও পর্যন্ত সনিয়া বা রাহুলের তরফে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। অন্যদিকে শচীন পাইলটের সঙ্গে তাঁর অনুগামী ২৩ বিধায়কও দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন। আইটিসিতে তাঁরা রয়েছেন বলে খবর।

    রাজস্থানে কংগ্রেসে বিবাদ কিন্তু আজকের নয়। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে রাজস্থানে কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পরে তরুণ নেতা শচীন পাইলটকে সেখানকার সভাপতি করেছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। নিজের দায়িত্ব শচীন কত ভালভাবে পালন করেছেন, তার পরিচয় পাওয়া যায় ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। বিজেপিকে হারিয়ে যে কংগ্রেস ফের রাজস্থানের ক্ষমতা দখল করেছিল, তার পিছনে সিংহভাগ কৃতিত্ব ছিল শচীন পাইলটের। সবাই ভেবেওছিলেন রাজস্থানের নতুন মুখ্যমন্ত্রী তিনিই হবেন। কিন্তু তাঁকে না করে কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্ব বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলটকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী করেন। তখন থেকেই তলে তলে এই বিবাদ চলছিল বলে খবর। সেটাই এতদিনে প্রকাশ্যে এসেছে।

    মধ্যপ্রদেশের ক্ষত টাটকা কংগ্রেসের। যেভাবে নিজের অনুগামী ২২ বিধায়ককে নিয়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া দল ভেঙে বেরিয়ে আসায় সেখানে কংগ্রেসের কমল নাথ সরকার পড়ে যায়, রাজস্থানে সেটাই শচীন পাইলট করবেন কিনা সেই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে কংগ্রেসের অন্দরে। আর তাই হয়তো গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে পুরোপুরি বিজেপির উপরেই দায় চাপান মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট।

    সাংবাদিক সম্মেলনে গেহলট বলেন, “আমরা শুনতে পাচ্ছি, দলত্যাগ করার জন্য বিধায়কদের টাকা অফার করা হচ্ছে। কয়েক জনকে ১৫ কোটি টাকার অফার দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিধায়কদের নিয়মিত লোভ দেখানো হচ্ছে। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে জয়ের পরেই বিজেপির আসল চেহারা ধরা পড়েছিল। প্রথমে তারা যা গোপনে করত, এখন তা প্রকাশ্যে করছে। আমরা গোয়া, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে তার নমুনা দেখেছি।”

    এর আগেও কংগ্রেস অভিযোগ করেছিল, বিজেপির এক প্রবীণ নেতা রাজস্থানে সরকার ভাঙার প্রচেষ্টায় যুক্ত আছেন। বিধানসভার মুখ্য সচেতক মহেশ যোশি সরকার ভাঙার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ ও অ্যান্টি কোরাপশান গ্রুপের কাছে অভিযোগ পর্যন্ত করেছিলেন। কিন্তু এসবের মধ্যেই দিল্লি এসে কংগ্রেসের উৎকণ্ঠা ফের বাড়িয়ে দিলেন শচীন পাইলট।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More