খুলছে শবরীমালা, সব বয়সী মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি, তবে থাকছে না নিরাপত্তা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ খুলছে শবরীমালা মন্দির। ভগবান আয়াপ্পার এই মন্দিরে ১৬ নভেম্বর শনিবার থেকে শুরু হতে চলেছে বার্ষিক মণ্ডল পুজো। ৪১ দিন ধরে শবরীমালায় চলবে এই উৎসব। সব বয়সের মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে কোনও মহিলাই বিশেষ করে অ্যাক্টিভিস্টদের জন্য কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে না। একথা আগেই জানিয়েছিল কেরল সরকার।

    জানা গিয়েছে শনিবার বিকেল ৫টা থেকে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে শবরীমালার দরজা। সরকারের তরফে প্রায় ১৫০ বাস চালু করা হয়েছে। শবরীমালা থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরের পাম্বা এবং নিলাক্কল থেকে এইসব সরকারি বাসে চড়েই মন্দিরে আসতে পারবেন ভক্তরা।

    বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলাকে সাত সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানর নির্দেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানান, শুধু শবরীমালা নয়, দেশের অন্য অনেক ধর্মীয় স্থানেই মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মহিলাদের স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রশ্নেই এই মামলা আরও বৃহত্তর বেঞ্চে দেখা উচিত বলেই সম্মতি জানিয়েছেন বিচারপতি গগৈ, বিচারপতি খানউইলকর ও বিচারপতি ইন্দু মলহোত্র।

    তবে এই বিষয়ে সহমত পোষণ করেননি আরও দুই বিচারপতি আর এফ নরিম্যান ও বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তাঁরা শীর্ষ আদালতের পুরনো রায় বলবৎ রাখার পক্ষেই মত দেন। তাঁরা বলেন, আদালতের কাছে সংবিধানই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানকে মাথায় রেখেই রায় দেওয়া উচিত সুপ্রিম কোর্টের। অবশ্য পুরনো রায়ের উপর কোনও স্থগিতাদেশও জারি করেনি সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। কিন্তু তারপরেও মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলেই জানিয়ে দেন কেরলের আইনমন্ত্রী এ কে বালান। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সরকারকে আরও সমস্যায় ফেলেছে। এই মুহূর্তে শবরীমালা মন্দিরে মহিলা পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সরকার অক্ষম। কারণ কোনও নির্দিষ্ট রায় না আসার ফলে কোনও পথ সরকার অবলম্বন করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।”

    তবে পুণের অ্যাক্টিভিস্ট ত্রুপ্তি দেশাই জানিয়েছেন, ২০ নভেম্বরের পর শবরীমালা দর্শনে যাবেন তিনি। কেরল সরকার নিরাপত্তা না দিলেও মন্দির দর্শন করবেন বলেই জানিয়েছে ত্রুপ্তি। তাঁর কথায়, “কেরল সরকারের কাছে আমরা নিরাপত্তা চেয়েছিলাম। সরকার আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে নাকি করবে না সেটা তাদের ব্যাপার। তবে নিরাপত্তা পাওয়া না গেলেও ২০ নভেম্বরের পর শবরীমালা দর্শনে যাব।”

    প্রাচীন বিশ্বাস মেনে শবরীমালায় ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। বিশ্বাস ছিল, ঋতুমতী মহিলারা মন্দিরে প্রবেশ করলে মন্দিরের প্রধান বিগ্রহ আয়াপ্পার কৌমার্যব্রত ভেঙে যাবে। এই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে মন্দিরে প্রবেশের অধিকার দাবি করেন মহিলারা। মানবশৃঙ্খল গড়ে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ-আন্দোলন। মামলা গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। অবসরের আগে তাঁর শেষ রায়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেছিলেন, লিঙ্গভিত্তিক যে বৈষম্য গড়ে উঠেছে শবরীমালার মন্দিরকে কেন্দ্র করে সেটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। সুপ্রিম কোর্ট এই অযৌক্তিকতাকে সমর্থন করে না। সংবিধানও এই লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে। মন্দিরের নিয়ন্ত্রক ত্রিবাঙ্কুরের দেবাস্বম বোর্ডও শীর্ষ আদালতের রায় মেনে নেয়। ফলে সব বয়সী মহিলারাই মন্দিরে ঢোকার প্রবেশাধিকার পেয়ে যান।

    ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ রায় দেয়, ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলারাও আয়াপ্পা মন্দিরের গর্ভ গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কার্যকর করতে পারেনি কেরলের বামপন্থী সরকার। মন্দিরে প্রবেশাধিকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে বিজেপি। তাদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যেন কেরল সরকার কার্যকর না করে। শবরীমালা মন্দিরে যেন কোনওভাবেই মহিলাদের ঢুকতে দেওয়া না হয়। কিন্তু প্রবল প্রতিরোধের মধ্যেও মন্দির দর্শন করেন ৫১ জন মহিলা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More