বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

৩৭০ ধারা বিলোপ: সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভগবত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের স্পেশাল স্টেটাস তথা বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা খারিজ করে দেওয়ার পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ।

কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর এ দিন আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত বলেছেন, “জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এটা আবশ্যিক ছিল। দেশের প্রত্যেককে রাজনীতির ঊর্দ্ধে উঠে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানানো উচিত।”

সঙ্ঘ পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবি ছিল সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এক সময়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে এ ব্যাপারে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এই দাবি নিয়ে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন তিনি। স্লোগান তুলেছিলেন,”এক দেশে, এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান”। তাঁকে গ্রেফতার করেছিল আবুল্লাহ সরকার। কাশ্মীরে বন্দি অবস্থাতেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর।

পরবর্তী কালে বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁদের অন্যতম ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচী ছিল সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ। কিন্তু কেন্দ্রে নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় না থাকায় তা বাস্তবায়িত করতে পারেননি অটল বিহারী বাজেপেয়ী। নরেন্দ্র মোদীর প্রথম জমানায় লোকসভা সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজ্যসভায় ছিল না। তা ছাড়া সরকারের তরফে এ ব্যাপারে খুব যে উদ্যোগ ছিল তাও নয়। তুলনায় জম্মু কাশ্মীরে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের তাগিদ ছিল বেশি। সেই কারণে হুরিয়ত নেতাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মেহবুবা মুফতির দল পিডিপি-র সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতেও দ্বিধা করেনি। যদিও সেই সরকার ডাহা ফেল করে এবং অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই সঙ্ঘ পরিবার এ ব্যাপারে সরকারের উপর প্রবল চাপ তৈরি করেছিল। ফলে সরকারও এ বিষয়ে বিলম্ব করল না।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, ৩৭০ ধারা বিলোপের পর বাঙালি আবেগকেও জাগিয়ে তুলতে চাইছেন বিজেপি-র বাংলার নেতারা। তাঁরা বলছেন, “একজন ভারতীয় ও বাঙালি হিসেবে প্রত্যেকের গর্ব হওয়া উচিত এই ভেবে যে, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন আজ সত্যি হল”।

 

Comments are closed.