মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা: মীমাংসা করে ধামাচাপা নয়, আইন বদলের দাবি জাতীয় মহিলা কমিশনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা আইনের চোখে দণ্ডনীয় অপরাধ। কঠিন শাস্তিই এই অপরাধের যোগ্য জবাব। আইনের ফাঁক গলে মীমাংসা সেখানে কোনও মতেই কাম্য নয়, এমনটাই দাবি তুলল জাতীয় মহিলা কমিশন।

কেন্দ্রীয় সরকারের মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকে রিপোর্ট পেশ করে জাতীয় মহিলা কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে কোনও মহিলা যৌন হেনস্থার শিকার হলে তার অভিযোগ জানানোর একটা নির্ধারিত সময় থাকে। সেটা কম করে তিন মাস। কিন্তু দেখা গেছে, ভয়েই হোক বা ব্যক্তিগত অনিচ্ছা, বেশিরভাগ মহিলাই নিজের পেশার জায়গায় যৌন হেনস্থার ঘটনা নিয়ে অভিযোগ জানাতে চান না। সঙ্কোচ বা উপরমহলের চাপ, যে কারণেই হোক না কেন, অভিযোগ জানানোর সময় অনেকক্ষেত্রেই পিছিয়ে যায়। তখন সেটা মীমাংসা করে মিটিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে চলে যায়। জাতীয় মহিলা কমিশনের দাবি, এই অভিযোগ জমা করার নির্ধারিত সময় তিন মাসের বদলে পিছিয়ে ছ’মাস করা হোক। এবং অবশ্যই মীমাংসা করে এমন অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা বন্ধ হোক।

১৯৯৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট কর্মক্ষেত্রে যৌন-হেনস্থা/নিগ্রহ প্রতিরোধে যে রায় দিয়েছিল, তাতে ‘কর্মক্ষেত্র’র সংজ্ঞা সীমাবদ্ধ ছিল একটা নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যেই।  ২০১৩ সালের গৃহীত আইনে সেই পরিসর অনেকটাই বেড়েছে। এখন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসালয়, হাসপাতাল, ক্রীড়া সংস্থা অনেক কিছুই এসেছে এর পরিধিতে। নির্দিষ্ট করা হয়েছে যৌন-হেনস্থা-নিগ্রহের প্রকৃতি। ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪-এ ধারায় গৃহীত হত। যাতে অপরাধীর সর্বোচ্চ এক থেকে তিন বছরের জেল এবং জরিমানা করা হত। তবে সম্প্রতি এই ধরনের অভিযোগ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় গৃহীত হয়, যাতে সর্বোচ্চ এক বছরের জেল বা জরিমানা অথবা দুটোই হয়। জাতীয় মহিলা কমিশনের দাবি, এই আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন হোক।

জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান রেখা শর্মা বলেছেন, দেশব্যাপী #মিটু প্রতিবাদের পরে এটা স্পষ্ট, পেশার জায়গায় মহিলাদের প্রায়শই যৌন ইঙ্গিতমূলক কথা বা হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়। অভিযোগ জানাতে গেলে, মহিলাদের প্রতি আচরণ শালীনতার সীমা ছাড়ায়। যৌন-হেনস্থা আইনের উদ্দেশ্য শুধু এর প্রতিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং লিঙ্গসাম্য প্রতিষ্ঠা করাও এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য। মহিলাদের এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে বাঁচানোর জন্য অনেক আইন রয়েছে। তবে সেগুলির ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

Comments are closed.