বুধবার, মার্চ ২০

‘দরকার পড়লে ছোট ছেলেকেও যুদ্ধে পাঠাবো’, চোখে জল, বুকে গর্ব নিহত জওয়ানের বাবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার রাতেই খবরটা এসে পৌঁছেছিল বিহারের ভাগলপুরের ঠাকুর পরিবারে। পরিবারের বড় ছেলে শহিদ হয়েছেন জঙ্গি হামলায়। চোখে জল নিয়ে শহিদ জওয়ান রতন ঠাকুরের বাবা বললেন, ‘দরকার পড়লে ছোট ছেলেকেও পাঠাবো যুদ্ধে।’

বৃহস্পতিবার পুলওয়ামাতে সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। এই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৪০ জন জওয়ান নিহত হয়েছেন। এই ৪০ জন শহিদের মধ্যেই রয়েছেন ভাগলপুরের বাসিন্দা রতন ঠাকুর। নিহত জওয়ানদের চিহ্নিত করার পর তাঁদের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। রতন ঠাকুরের বাড়িতে খবর আসার পরেই পরিবারের সকলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এত দুঃখের মধ্যেও ছেলের জন্য গর্ব রতন ঠাকুরের বাবার চোখ-মুখে। চোখে জল নিয়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্য রাখেন তিনি। বলেন, “ছেলের মৃত্যু অবশ্যই কষ্টের। কিন্তু আমার ছেলে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। আমি ওর জন্য গর্বিত। দরকার পড়লে ছোট ছেলেকেও আমি দেশের জন্য প্রাণ বলিদান করতে পাঠাবো।” তার সঙ্গে অবশ্য তিনি এও দাবি করেছেন, এই হামলার জবাব দিতেই হবে। নইলে এত জওয়ানের বলিদান বৃথা যাবে।

এলাকার ছেলে দেশের জন্য শহিদ হয়েছেন, এ কথা জানার পর মানুষের ঢল নেমেছে রতন ঠাকুরের বাড়িতে। তাঁর নামে জয়ধ্বনি উঠছে। এলাকার ছেলের বীরত্বে সবাই গর্বিত। এক প্রতিবেশীর বক্তব্য, এখানকার অনেক যুবকই সেনাবাহিনীতে রয়েছেন। দেশের জন্য প্রাণ বলিদান এখানে নতুন নয়। এই ঘটনা যত হচ্ছে, ততই এলাকার যুবকদের মধ্যে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার তাগিদ বাড়ছে। এঁদের সবার জন্য তাঁরা গর্বিত।

আরও পড়ুন: পুলওয়ামায় বাংলার আরেক শহিদ সুদীপ, হাঁসপুকুরিয়ার বাড়িতে ঘন ঘন জ্ঞান হারাচ্ছেন মা

বৃহস্পতিবার সাড়ে ৩০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক ভর্তি মহিন্দ্রা স্করপিও গাড়ি নিয়ে জইশের আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল আহমেদ সিআরপিএফের কনভয়ে গিয়ে ধাক্কা মারে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। ঘটনাস্থলেই নিহত হন অনেক জওয়ান। পরবর্তীতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে নিহতের সংখ্যা।

এই ঘটনার নিন্দা করেছে গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তড়িঘড়ি ক্যাবিনেট মিটিং ডেকেছেন। মিটিংয়ের পর তিনি বলেন, দোষীদের ছাড়া হবে না। এর শাস্তি জঙ্গিরা পাবে। একই সুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলাতেও। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিখ্যাত ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই ক্ষুব্ধ। সবার আর্জি, এই হামলার জবাব দিতে হবে।

যদিও পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরণের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে তারা যুক্ত নয়। কোনওরকম তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভারত সরকার ও ভারতের মিডিয়া এই হামলায় পাকিস্তানকে দোষারোপ করছে।

আরও পড়ুন

এক্সক্লুসিভ: ছেলে চলে গেল, আর কারও কাছে কিচ্ছু চাওয়ার নেই…

Shares

Comments are closed.