অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে রাজি, শর্ত দিয়ে জানিয়ে দিল শাহিনবাগ

অমিত শাহ তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন, তিনি সিএএ নিয়ে সমস্ত রকম আলোচনার জন্য প্রস্তুত। যদি কেউ চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে সময় নিয়ে তাঁর দেখা করতে পারেন। তিনদিনের মধ্যেই শাহিনবাগের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল সেকথা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির ভোট বিজেপি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাওয়ার পর থেকে দৃশ্যতই কিছুটা নরম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিষ্যুদবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে শাহ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যদি কেউ তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে চান, তাহলে স্বাগত।

    ৪৮ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রস্তাব লুফে নিলেন শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা। তাঁদের তরফে বলে দেওয়া হল, “অমিত শাহের প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করছি। আগামীকাল, রবিবার দুপুর দুটোর সময়ে আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে রাজি। তবে আমরা তাঁর অফিস থেকে কোনও সময় নিতেব পারব না। এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলুন কখন, কোথায় আলোচনা করবেন।”

    অমিত শাহ তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন, তিনি সিএএ নিয়ে সমস্ত রকম আলোচনার জন্য প্রস্তুত। যদি কেউ চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে সময় নিয়ে তাঁর দেখা করতে পারেন। তিনদিনের মধ্যেই শাহিনবাগের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল সেকথা।

    ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির শাহিনবাগে আন্দোলন চলছে। মূলত সংখ্যালঘু মহিলারাই সেই আন্দোলনের সামনের সারিতে। কোলে শিশু নিয়ে মায়েদের দেখা যাচ্ছে দিন-রাত এক করে ধর্নায় বসে থাকতে। দাবি একটাই, ধর্মের নিরিখে নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন বাতিল করতে হবে।

    শাহিনবাগের প্রতিবাদীরা জানিয়েছেন, তাঁদের কোনও প্রতিনিধিদল নেই। তবে আন্দোলনকারীদের মধ্যেই কেউ না কেউ গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসবেন। কিন্তু সরকারি ভাবে সময় না নিলে কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা সম্ভব? অনেকের মতে, শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা আলোচনায় রাজি হলেও যে শর্ত দিয়েছেন তাতে কতটা তা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    দিল্লির মতো রাজধানী শহরে এই আন্দোলন চলা যেমন সরকারের পক্ষে অস্বস্তির তেমন টানা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াও দুষ্কর। তাই দু’পক্ষই একটা রাস্তা খুঁজছে বলে মনে করছেন অনেকে।

    দিল্লির ভোট প্রচার তখন মধ্যগগনে। উত্তরপ্রদেশের একটি সভায় গিয়ে তেজের সঙ্গে অমিত শাহ বলেছিলেন, “উদ্বাস্তু মানুষের স্বপ্ন সফল করার আইন পাশ হয়েছে। যে যতই আন্দোলন করুক কোনও লাভ নেই। এই আইন থেকে এক চুলও সরবে না নরেন্দ্র মোদীর সরকার।” কিন্তু দিল্লির ভোটে ৬২-৮ আসনে হেরে অমিত শাহ যেন অনেকটাই অবস্থান বদলেছেন। কখনও বলেছেন, ‘গোলি মারো’ মন্তব্য করা ঠিক হয়নি, কখনও আবার সিএএ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা চেয়েছেন। এখন দেখার শাহকে শাহিনবাগ যে শর্ত দিল তাতে তিনি রাজি হন কিনা। রবিবার দুপুর দুটোয় আলোচনার টেবিলে বসেন কিনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More